সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ৬নং বড়ধুল ইউনিয়নে বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায়, দুস্থ, এতিম ও প্রতিবন্ধী মানুষের মাঝে সরকারি মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে জিআর (গ্রাটুইটাস রিলিফ) খাদ্যশস্যের চাল বিতরণ করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ৬নং বড়ধুল ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এ চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, কর্মসূচির আওতায় মোট ৮৫০ জন সুবিধাভোগীর মাঝে জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৪৫০টি কার্ডের বিপরীতে বরাদ্দকৃত চাল এবং পরবর্তীতে অবশিষ্ট ৩৮০টি কার্ডের বিপরীতে বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।
চাল বিতরণ কার্যক্রমে ট্যাগ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, বেলকুচির উপ-সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম। তিনি জানান, নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী সুবিধাভোগীদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। স্লিপের পরিবর্তে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি যাচাই করে সুবিধাভোগীদের হাতে চাল তুলে দেওয়া হয়।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, “প্রথম ধাপে ৪৫০টি কার্ডের মালামাল বিতরণ করা হয়েছে। পরে আরও ৩৮০টি কার্ডের মালামাল বিতরণ করা হয়। সব মিলিয়ে ৮৫০ জন সুবিধাভোগীর মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।”
চাল নিতে আসা কয়েকজন সুবিধাভোগী বলেন, “আমরা কোনো স্লিপ পাইনি। তবে ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় এবং এমপি মহোদয় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে আমাদের চাল দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের সময়ে এই খাদ্য সহায়তা আমাদের পরিবারের জন্য অনেক উপকারে আসবে।”
সুবিধাভোগীরা আরও বলেন, দুর্যোগের সময়ে সরকারি সহায়তা পেলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য সংকট কিছুটা হলেও কমে আসে। জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে চাল পাওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
আয়োজকরা জানান, সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায়, দুস্থ, এতিম ও প্রতিবন্ধী মানুষের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতেই এ চাল বিতরণ করা হয়েছে। এ ধরনের সহায়তা দুর্যোগকবলিত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর সাময়িক খাদ্য সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আয়োজনে: ৬নং বড়ধুল ইউনিয়ন পরিষদ, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ।
আল-আমিন হোসেন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
