বর্ষীয়ান এই চলচ্চিত্রকার আজ ৭৯ বছরে পদার্পণ করেছেন।
তাঁর পুরো নাম সৈয়দ উদ্দিন আহমেদ,
তবে চলচ্চিত্র জগতে তিনি সর্বজনবিদিত ছটকু আহমেদ নামে।
১৯৪৬ সালের ৬ অক্টোবর পুরনো ঢাকার নারিন্দায় জন্ম তাঁর,
তবে পৈতৃক নিবাস বিক্রমপুরে।
পিতা শরফুদ্দীন আহমেদ ছিলেন সিভিল ডিফেন্সের ট্রেনিং অফিসার,
আর মাতা জোহরা শরফুদ্দীন ছিলেন নারায়ণগঞ্জ গার্লস স্কুলের শিক্ষিকা।
বাবা-মায়ের চাকরির সুবাদে শৈশব ও কৈশোর কেটেছে চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে।
ছটকু আহমেদ মূলত এক বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী।
তিনি একাধারে চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার ও গীতিকার।
তাঁর লেখনী ও সৃজনশীলতা বাংলা চলচ্চিত্রে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে।
১৯৬২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ অবলম্বনে একই শিরোনামে নাটক পরিচালনা করে শুরু হয় তাঁর পরিচালনা জীবন।
১৯৬৬ সালে তিনি রচনা করেন ধারাবাহিক নাটক ‘অমর জীবন’ এবং পরিচালনা করেন ‘দিঠি’ নামের নাটক।
এরপর ১৯৭২ সালের ১৬ জুলাই কিংবদন্তি ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন —
এই ছবির মাধ্যমেই তাঁর চলচ্চিত্রে আনুষ্ঠানিক আগমন ঘটে।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি রচনা করেছেন ৩৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রের কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ, যার মধ্যে বহু চলচ্চিত্র পেয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
তাঁর পরিচালিত বিখ্যাত চলচ্চিত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে—
নাত বৌ, রাজদণ্ড, গৃহবিবাদ, চেতনা, অত্যাচার, মায়া মমতা, সত্যের মৃত্যু নাই, বুকের ভিতর আগুন, মিথ্যার মৃত্যু, বুকভরা ভালোবাসা, বর্ষা বাদল, প্রতিবাদী মাস্টার, শেষ যুদ্ধ প্রভৃতি।
১৯৮৬ সালে ‘গৃহ বিবাদ’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি বাচসাস পুরস্কারে সেরা গীতিকার, কাহিনীকার ও সংলাপ রচয়িতা — তিন বিভাগেই পুরস্কৃত হন।
১৯৮৯ সালে ‘সত্য মিথ্যা’ চলচ্চিত্রের সংলাপ রচনার জন্য পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
এছাড়া তাঁর লেখা আরও বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র যেমন—
বাংলার বধূ’, ‘লালু মাস্তান’, ‘পিতা মাতা সন্তান’, ‘ঘাতক’ ও ‘চেতনা’
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে।
পেশাগত জীবনে তিনি একজন ডিপ্লোমা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং
তাঁর আরেক পরিচয়—একজন দক্ষ ক্রীড়াবিদ।
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতায় তিনি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৭৯ সালের ১৮ নভেম্বর মাসরুবাহ আহমেদ এপি-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের সংসারে চার কন্যা সন্তান রয়েছে।
আজ এই বর্ষীয়ান চলচ্চিত্রকার, গল্পকার ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের জন্মদিনে রইল অন্তরের গভীর শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।
বাংলা চলচ্চিত্রের এই অকৃত্রিম সাধক দীর্ঘজীবী হোন সষ্টিশীলতায় ও প্রেরণায় তিনি যেন থাকেন চির আলোকিত।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা