তাঁর জন্মনাম তাসউইন গহর। ছোটবেলাতেই অভিনয়ের জগতে পা রেখে যে প্রতিভার স্বাক্ষর তিনি রেখেছিলেন, দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তা আরও সমৃদ্ধ হয়েছে।
শিশুশিল্পী হিসেবে অনন্য অভিষেক
১৯৭৯ সালে মসিহউদ্দিন শাকের ও শেখ নিয়ামত আলী পরিচালিত কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে তাঁর অভিষেক। তখন তিনি মাত্র পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রথম ছবিতেই অসাধারণ অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ১৯৭৯ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী বিভাগে যৌথভাবে পুরস্কৃত হন।
‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ শুধু ইলোরা গহরের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসেও একটি মাইলফলক। ছবিটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মোট আটটি বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছিল।
টেলিভিশনে পথচলা
টেলিভিশন নাটকেও ইলোরা গহরের অভিষেক ছিল উল্লেখযোগ্য। আবদুল্লাহ আল মামুনের রচনায় এবং আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় ‘তুমি সেই প্রজাপতি’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর টেলিভিশন যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ‘অসময়ের অতিথি’ নাটকে অভিনয় করেন। এরপর দীর্ঘ সময় অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন।
দীর্ঘ বিরতির পর নতুন প্রজন্মের নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘চড়ুইভাতি’ ও ‘ব্যাচেলর’-এর মাধ্যমে তিনি আবারও দর্শকের সামনে ফিরে আসেন। বিশেষ করে ব্যাচেলর-এ ফাহমিদা চরিত্রটি দর্শকের মধ্যে বেশ পরিচিতি পায়।
উল্লেখযোগ্য কাজ
⭐ সূর্য দীঘল বাড়ী — ১৯৭৯
⭐ গাঙচিল — ১৯৮০
⭐ নাত বউ — ১৯৮২
চড়ুইভাতি — ২০০২
ব্যাচেলর — ২০০৪
৬৯ — ২০০৫
চিকেন টিক্কা মাসালা — ২০১০
মধুমতি — ২০১১
ছবিয়াল রিইউনিয়ন — ২০১৭
আব্বাস — ২০১৯
ঊনপঞ্চাশ বাতাস — ২০২০
লাল মোরগের ঝুঁটি — ২০২১
সহ আরও বেশ কিছু চলচ্চিত্র, টেলিভিশন নাটক ও ওয়েবভিত্তিক কাজে অভিনয় করেছেন।
শিল্পী পরিবারের সন্তান
ইলোরা গহর এমন এক সাংস্কৃতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন, যেখানে সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পচর্চার গভীর পরিবেশ ছিল। তাঁর বাবা ছিলেন প্রখ্যাত গীতিকার, লেখক, মুক্তিযুদ্ধের সময়ের সাংস্কৃতিক কর্মী এবং স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নঈম গহর। নঈম গহরের জন্ম মুন্সীগঞ্জের রামপাল ইউনিয়নের সিপাহীপাড়া গ্রামে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর দেশাত্মবোধক গান মানুষের মধ্যে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।
বাবার সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে নিজের অভিনয়প্রতিভায় ধারণ করে ইলোরা গহর দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের নাটক ও চলচ্চিত্রে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন।
শিশুশিল্পী হিসেবে জাতীয় স্বীকৃতি দিয়ে যে যাত্রার শুরু, সময়ের সঙ্গে সেই যাত্রা তাঁকে পরিণত করেছে একজন পরিণত ও বহুমাত্রিক অভিনেত্রীতে। পর্দায় তাঁর স্বাভাবিক অভিনয়, সংলাপ পরিবেশন এবং চরিত্রের সঙ্গে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।
জন্মদিনে প্রিয় অভিনেত্রী ইলোরা গহরের প্রতি রইল আন্তরিক শ্রদ্ধা, শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।
সুস্থ, সুন্দর ও আনন্দময় হোক তাঁর আগামী দিনের পথচলা। আরও বহু বছর তাঁর অভিনয় প্রতিভায় সমৃদ্ধ হোক বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্র।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা