যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চাওয়ার কথা জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। তবে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইশরাক।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে গত ১৭ অক্টোবর রাজধানীর পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর এলাকায় পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন ইশরাক। অভিযানের সময় নিজের লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি দাবি করেন, আত্মরক্ষার প্রয়োজনে সাময়িকভাবে অস্ত্রটি হাতে নিয়েছিলেন।
ইশরাকের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে বিভিন্ন ভবনে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩০০ গ্রাম হেরোইন, কয়েক বোতল মদ, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র এবং চুরি বা ছিনতাই করা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে—এমন বেশ কিছু মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ছয়জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনে করা সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, ঘণ্টিঘর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রি ও সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা এবং আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক বৈঠকে কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, শুধু খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে মাদক সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; বরং সরবরাহের মূল নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা জরুরি।
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশের বিষয়ে ইশরাক বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের মূল উদ্দেশ্য মাদক নির্মূল হলেও গণমাধ্যমে তাঁর হাতে অস্ত্র থাকার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এতে সরকারের কার্যক্রম আড়ালে পড়ে যাচ্ছে এবং দল বিব্রত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেছেন। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাওয়ার কথা জানান তিনি।
তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যেতে এবং এলাকার সমস্যা সমাধানে কাজ করতে বলেছেন।
অভিযান নিয়ে সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ইশরাক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত, দলীয় বা রাজনৈতিক স্বার্থ নেই। একই সঙ্গে অভিযানের সময় কারও ক্ষতি হয়ে থাকলে বা কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের একপর্যায়ে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের স্লোগান ও অবস্থানকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে। এতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে ইশরাক মাদক নির্মূলে দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং এ কাজে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
বি.জে.সোহাগ তালুকদার