আজ (২৩ অক্টোবর) প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার, অভিনেতা, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’-এর নির্মাতা এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণী মানুষ চাষী নজরুল ইসলাম-এর ৮৩তম জন্মদিন। তাঁর প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
১৯৪১ সালের এই দিনে বিক্রমপুরের শ্রীনগর থানার সমষপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন চাষী নজরুল ইসলাম। বাবা মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ছিলেন ভারতের টাটা আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার।
তাঁর নামকরণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক ঐতিহাসিক ঘটনা — শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হকই তাঁর নাম রাখেন “চাষী নজরুল ইসলাম”; যেখানে “চাষী” এসেছে তাঁর মামা চাষী ইমাম উদ্দিন থেকে, আর “নজরুল ইসলাম” এসেছে মহাকবি কাজী নজরুল ইসলামের নাম থেকে।
চাষীর শৈশব কেটেছে জামশেদপুরে। সেখানেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা, কিশোর বয়সে শুরু হয় অভিনয়ের প্রতি গভীর অনুরাগ। স্কুলের নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, এমনকি টাটা কোম্পানির জন্মদিনে প্রামাণ্যচিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে চিনে নেন তিনি।
দিলীপ কুমারের ভক্ত চাষী নজরুল একসময় অভিনেতা হওয়ার স্বপ্নে বাড়ি থেকে পালিয়ে চলে যান বোম্বেতে! মীনা কুমারীর সঙ্গে সাক্ষাৎও হয় তাঁর, যিনি তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন — “এখন বাড়ি ফিরে যাও, পড়াশোনা শেষ করে এসো।”
১৯৫৭ সালে বাবার মৃত্যু পর পারিবারিক দায়িত্ব তাঁর কাঁধে এসে পড়ে। ঢাকায় এসে এজি অফিসে চাকরি নেন, কিন্তু মন পড়ে থাকে নাটক ও সিনেমায়।
খালাতো বোনের স্বামী সৈয়দ আওয়ালের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় হয় বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ফতেহ লোহানীর সঙ্গে, যিনি ‘আসিয়া’ চলচ্চিত্রে তাঁকে সহকারী পরিচালকের সুযোগ দেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর চলচ্চিত্র জীবনের যাত্রা।
চাষী নজরুল ইসলাম ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’ পরিচালনার মাধ্যমে এক নতুন ইতিহাস রচনা করেন। এরপর ‘সঙ্গম’, ‘দেবদাস’, ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’, ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘শাস্তি’, ‘চন্দ্রনাথ’, ‘চন্দ্রগ্রহণ’, ‘অন্তরঙ্গ’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় ও কালজয়ী চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন তিনি।
তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর গল্পে ছিল সমাজ, প্রেম, দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধ আর মানবতার অম্লান বার্তা। এদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে তিনি এক প্রেরণাদায়ী পথিকৃৎ।
সম্মাননা ও অর্জন:
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক প্রাপ্ত
একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন
বহু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ ও স্বীকৃতি
২০১৪ সালের মে মাসে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এই কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার। ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন, রেখে যান অসংখ্য স্মরণীয় কাজ ও ভালোবাসার দর্শক।
চাষী নজরুল ইসলাম শুধু একজন পরিচালক নন, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা