ঢাকাস্থ কসবা সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠানে মরহুম মোঃ হামিদুল হক মাস্টার কে সমাজসেবক মরণোত্তর হিসাবে পুরস্কৃত করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য সাবেক সচিব জনাব মুশফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাবেক চেয়ারম্যান বিআরটিএ ও সাবেক সচিব। মহম্মদ মামুনুর রশিদ সচিব তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম অতিরিক্ত সচিব ভূমি মন্ত্রণালয়। মোহাম্মদ ইলিয়াস সদস্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি। আলহাজ্ব মোঃ সেলিম মাস্টার সাবেক সভাপতি কসবা উপজেলা সমিতি। মোঃ কবির আহমেদ ভুইয়া পরিচালক কমফোর্ট হসপিটাল ঢাকা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল হুদা সভাপতি ঢাকাস্থ কসবা উপজেলা সমিতি। সভায় বক্তারা মরহুম হামিদুল হক মাস্টারের স্মৃতিচারণ করেন। মরহুম হামিদুল মাস্টারের পক্ষে মরণোত্তর ক্রেস্ট গ্রহণ করেন তারই সুযোগ্য সন্তান মোঃ মনিরুল হক।
হামিদুল হক মাস্টার একজন শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি ও ন্যায়পরায়ণ মানুষ। তিনি ১ লা মে ১৯৪১ সালে আকছিনা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি জমশেদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ (বর্তমান সরকারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ) থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবনে তিনি প্রথমে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে তৎকালীন কসবা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে (বর্তমান কসবা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়) শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে খাড়েরা মোহাম্মাদী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘ ১৮ বছর নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করার পর স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করলেও পানিয়ারূপ গ্রামবাসী ও তৎকালীন এমপি জনাব দেওয়ান সিরাজের অনুরোধে খাদের কিনারায় চলে যাওয়া পানিয়ারূপ জুনিয়র হাই স্কুলের পূনঃজন্ম দেন এবং পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কথিত আছে, তিনি প্রায় ছয় বছর বিনা বেতনে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর এই ত্যাগ ও শিক্ষার প্রতি নিবেদন আজও স্মরণীয়।
পরবর্তীতে অবিভক্ত কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে তিনি শিক্ষকতা থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে এসে জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।
জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বহুমুখী। রাস্তা-ঘাট, পুল-কালভার্ট নির্মাণ, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
কসবার দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি করণে ছিল উনার দূরদর্শী ভূমিকা।
টি. আলী কলেজ, কসবা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, পৌর উচ্চ বিদ্যালয়, কুটি গার্লস স্কুল এবং জয়নগর লিয়াকত আলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ও অগ্রযাত্রায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
এছাড়াও বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণে ও সংস্কারে উনার অগ্রণী ভূমিকা ছিল।
এছাড়াও তিনি কসবা পাটচাষী সমিতির সভাপতি, দি কসবা কো-অপারেটিভের সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতি,
কসবা সমবায় সমিতির সভাপতি,
পল্লী বিদ্যুত সমিতির সভাপতি,
কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি,
কসবা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহসভাপতি, কসবা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি, পৌর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি, আকছিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি, পানিয়ারুপ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি এবং কসবা বালক বিদ্যালয় ও টি.আলী কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্য হিসেবে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
শিক্ষকতা, জনপ্রতিনিধিত্ব এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড সহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই হামিদুল হক মাস্টার সাহেব ছিলেন মানুষের কল্যাণে নিবেদিত একজন সৎ ও আদর্শ মানুষ। তাঁর কর্মময় জীবন কসবার মানুষের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
উনার যে অর্জন, সমাজ ও কসবাবাসীর জন্য যে অনুকরণীয় অবদান,
তাঁর জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও গর্বিত।
২০২৫ সালের ১৮ জুন তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, সৎ জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের একজন অভিভাবককে হারিয়েছি।
মহান আল্লাহ তাঁর জীবনের সকল নেক আমল কবুল করুন, ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন |
শাহ মুহাম্মদ ফুরকানুল ইসলাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি