মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শুভ জন্মদিন বলিউড অভিনেত্রী এশা দেওল

শুভ জন্মদিন বলিউড অভিনেত্রী এশা দেওল

শুভ জন্মদিন বলিউড অভিনেত্রী এশা দেওল

এশা দেওল (Esha Deol) — বলিউডের এক পরিচিত মুখ, কিংবদন্তি তারকা দম্পতি ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর কন্যা। তারকাখচিত পরিবারে জন্ম হলেও নিজের অভিনয়, নৃত্যপ্রতিভা ও স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে তিনি তৈরি করেছেন নিজস্ব পরিচিতি।


আজ ২ নভেম্বর, জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর জন্মদিন। জন্মদিনে তাঁকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।


জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়
এশা দেওল জন্মগ্রহণ করেন ১৯৮১ সালের ২ নভেম্বর, ভারতের মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে (তৎকালীন বোম্বে)। তাঁর পিতা হিন্দি চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র এবং মাতা বলিউডের 'ড্রিম গার্ল' খ্যাত অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী হেমা মালিনী।
তাঁর বাবা ধর্মেন্দ্র ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। অন্যদিকে মা হেমা মালিনী অভিনয়ের পাশাপাশি শাস্ত্রীয় নৃত্যেও অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ফলে ছোটবেলা থেকেই অভিনয় ও শিল্প-সংস্কৃতির আবহে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছেন এশা।

 

তিনি ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর জ্যেষ্ঠ কন্যা। তাঁর ছোট বোন আহানা দেওল। এছাড়া বাবা ধর্মেন্দ্রর প্রথম পক্ষের দুই ছেলে সানি দেওল ও ববি দেওল তাঁর সৎভাই।


শিক্ষাজীবন ও শৈশব
এশার শিক্ষাজীবন শুরু হয় মুম্বাইয়ের যমুনাবাঈ নার্সী স্কুলে। পরবর্তীতে তিনি কোদাইকানাল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশোনা করেন। এরপর মুম্বাইয়ের মিঠিবাই কলেজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
অভিনয়শিল্পী পরিবারের সন্তান হলেও তাঁর শৈশবের অভিজ্ঞতা ছিল বেশ বৈচিত্র্যময়। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলায় সাধারণ মানুষের মতো অটোরিকশা ও লোকাল ট্রেনে যাতায়াত করেছেন। তারকাসন্তান হিসেবে সব সময় বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বেড়ে ওঠেননি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। স্কুলে ফুটবল দলের অধিনায়কত্ব করেছেন এবং হ্যান্ডবলও খেলেছেন। পাশাপাশি মায়ের অনুপ্রেরণায় ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য ভরতনাট্যম ও ওড়িশি চর্চা করেন। নৃত্যের প্রতি তাঁর এই অনুরাগ পরবর্তী সময়ে তাঁর শিল্পীসত্তাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।


চলচ্চিত্রে অভিষেক
২০০২ সালে পরিচালক বিনয় শুক্লার 'কোই মেরে দিল সে পুছে' (Koi Mere Dil Se Poochhe) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে অভিনয়জীবন শুরু করেন এশা দেওল। প্রথম ছবিতেই অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৩ সালে অর্জন করেন মর্যাদাপূর্ণ ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেত্রী (Best Female Debut) পুরস্কার।
এরপর একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র


এশা দেওলের অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—
কোই মেরে দিল সে পুছে (২০০২)
না তুম জানো না হাম (২০০২)
কেয়া দিল নে কাহা (২০০২)
এলওসি: কারগিল (২০০৩)
আয়ুথা এজুথু (২০০৪)
ধুম (২০০৪)
কাল (২০০৫)
দস (২০০৫)
নো এন্ট্রি (২০০৫)
শাদি নম্বর ওয়ান (২০০৫)
পেয়ার মোহন (২০০৬)
আনকাহি (২০০৬)
টেল মি ও খুদা (২০১১)।


বিশেষ করে 'ধুম', 'কাল' ও 'নো এন্ট্রি' চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। মণি রত্নম পরিচালিত তামিল চলচ্চিত্র *'আয়ুথা এজুথু'*তেও অভিনয় করে তিনি দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের দর্শকদের কাছে পরিচিত হন। এই ছবির হিন্দি সংস্করণ ছিল 'যুবা'।
অভিনয়ে প্রত্যাবর্তন ও নতুন অধ্যায়


চলচ্চিত্রে দীর্ঘ বিরতির পর এশা দেওল আবার অভিনয়ে ফিরে আসেন। ২০২২ সালে অজয় দেবগনের সঙ্গে 'রুদ্র: দ্য এজ অব ডার্কনেস' (Rudra: The Edge of Darkness) ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেন। এরপর ২০২৩ সালে 'হান্টার: টুটেগা নেহি, তোড়েগা' (Hunter: Tootega Nahi, Todega) সিরিজে অভিনয়ের মাধ্যমে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নিজের উপস্থিতি জানান দেন।

 

এ ছাড়া স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'কেকওয়াক' (Cakewalk) ও 'এক দুয়া' (Ek Duaa)-তে অভিনয়ের জন্যও প্রশংসা অর্জন করেন। 'এক দুয়া' ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
২০২৫ সালে 'তুমকো মেরি কসম' চলচ্চিত্রেও তাঁকে দেখা গেছে। পরবর্তী সময়ে নতুন চলচ্চিত্র ও ওয়েবভিত্তিক কাজের মাধ্যমে অভিনয়জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবন


২০১২ সালের ২৯ জুন ব্যবসায়ী ভারত তাখতানির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এশা দেওল। তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় দুই কন্যাসন্তান—রাধ্যা ও মিরায়া।

দীর্ঘ প্রায় ১২ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এশা ও ভারত যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে তাঁদের বিচ্ছেদের কথা জানান।

তবে বিচ্ছেদের পরও দুই মেয়ের প্রতিপালনের ক্ষেত্রে তাঁরা পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। ২০২৬ সালের জুনে এক সাক্ষাৎকারে এশা জানিয়েছেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও ভালো থাকার বিষয়টি তাঁদের দুজনের কাছেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা যৌথভাবে সন্তানদের বড় করে তুলছেন।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি

অভিনয়জীবনের শুরুতেই ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য। এ ছাড়া বিভিন্ন পুরস্কার ও মনোনয়নের মাধ্যমে নিজের অভিনয়প্রতিভার স্বীকৃতি পেয়েছেন।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—
২০০৩ — ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেত্রী, 'কোই মেরে দিল সে পুছে'।
২০০৩ — আইফা শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেত্রী পুরস্কার।
২০০৩ — স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডে সর্বাধিক প্রতিশ্রুতিশীল নবাগত অভিনেত্রী।
২০১৯ — 'কেকওয়াক' ছবির জন্য আইডব্লিউএম ডিজিটাল অ্যাওয়ার্ডে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র)।
২০২২ — 'এক দুয়া' ছবির জন্য আইডব্লিউএম ডিজিটাল অ্যাওয়ার্ডে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র)।


অভিনয়ের বাইরেও এশা
এশা দেওল কেবল একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী নন; তিনি একজন প্রশিক্ষিত শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পীও। শৈশব থেকে নৃত্যের প্রতি তাঁর আগ্রহ, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ এবং অভিনয়ের প্রতি নিষ্ঠা তাঁর বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় বহন করে।

তারকাখ্যাতির উত্তরাধিকার নিয়ে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করলেও নিজের অভিনয় ও শিল্পচর্চার মধ্য দিয়ে তিনি স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। সময়ের সঙ্গে চলচ্চিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ও ওয়েব সিরিজে কাজ করে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন।

জন্মদিনের শুভেচ্ছা
বলিউডের এই অভিনেত্রীর জন্মদিনে জানাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। জীবনের আগামী দিনগুলো আনন্দ, সুস্বাস্থ্য, ভালোবাসা ও সাফল্যে পরিপূর্ণ হয়ে উঠুক। তাঁর শিল্পীসত্তা আরও বিকশিত হোক, নতুন নতুন কাজের মধ্য দিয়ে দর্শকদের সামনে ফিরে আসুন নতুন উদ্যমে।
শুভ জন্মদিন, এশা দেওল।

 

বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা