পঞ্চগড়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় মো. রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৩) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
আসামির উপস্থিতিতে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. রিফাত বিন সাজ্জাদ পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার মাঝগ্রাম এলাকার আকতার হোসেনের ছেলে।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ট্রেন ভ্রমণের সময় পরিচয়ের সূত্র ধরে এক তরুণীকে কৌশলে আটোয়ারী এলাকায় নামিয়ে নিয়ে যায় রিফাত। পরে নির্জন স্থানে তাকে একাধিকবার ধর্ষণের পর মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ রেললাইনের ওপর ফেলে রাখা হয়।
পরদিন সকালে রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা রেললাইন থেকে ওই তরুণীর খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করে।
হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে গিয়ে অন্য এলাকায় ইজিবাইক চুরির চেষ্টা করতে গিয়ে স্থানীয় জনতা ও নৈশপ্রহরীদের হাতে আটক হয় রিফাত। পরে আটোয়ারী থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার ব্যবহৃত মুঠোফোন পরীক্ষা করে হত্যাকাণ্ড-সংশ্লিষ্ট একাধিক ভিডিও ও ছবি উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানায়। পরে তদন্তে সংগৃহীত বিভিন্ন প্রমাণ ও ডিজিটাল আলামতের ভিত্তিতে আদালতে রিফাতের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(২) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই রায় অপরাধীদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী না থাকায় স্টেট ডিফেন্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান বলেন, তারা এ রায়ে সন্তুষ্ট নন এবং উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
মো. মাহাবুব আলম
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
