১৯৭৩ সালের ৩ নভেম্বর খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন এই গুণী শিল্পী। পিতা নাজমুজ্জামান মনি এবং মাতা শামীমা আখতার জামান। ছোটবেলা থেকেই নাচ, গান ও অভিনয়ে আগ্রহী মৌসুমী ১৯৯২ সালে “আনন্দ বিচিত্রা ফটো বিউটি কনটেস্ট”-এ বিজয়ী হয়ে আলোচনায় আসেন। এরপরই শুরু হয় তাঁর তারকাখ্যাতির যাত্রা।
১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন মৌসুমী। সালমান শাহর বিপরীতে তাঁর অভিনীত এই ছবিটি ছিল যুগান্তকারী সাফল্য — বক্স অফিসে রেকর্ড গড়ে তাঁকে রাতারাতি সুপারস্টার করে তোলে। নব্বই দশকের পুরো দশক জুড়ে তিনি রাজত্ব করেছেন ঢালিউডের শীর্ষ নায়িকা হিসেবে।
অভিনয়ের পাশাপাশি মৌসুমী গেয়েছেন গান, লিখেছেন চিত্রনাট্য, পরিচালনা ও প্রযোজনাও করেছেন একাধিক চলচ্চিত্র। তাঁর পরিচালিত ছবির মধ্যে রয়েছে ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’, ‘মেহের নিগার’, ‘শূন্যে প্রেম’ প্রভৃতি।
ব্যক্তিজীবনে তিনি অভিনেতা ওমর সানির সহধর্মিণী। তাঁদের দাম্পত্য জীবন বিনোদন জগতের অন্যতম আদর্শ দম্পতি হিসেবে পরিচিত। তাঁদের দুই সন্তান — ফারদীন ও ফাইজা।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে সক্রিয় মৌসুমী আজও সমান উদ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি উপহার দিয়েছেন অসংখ্য ব্যবসাসফল ও দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র — অনন্ত ভালোবাসা, দোলা, প্রিয় তুমি, দেবদাস, মেঘলা আকাশ, খেয়ার ঘাটে শামুকের খোল, শত্রু ঘেরাও, মায়ার বাঁধন ইত্যাদি তাঁর অভিনয় জীবনের গর্বিত সংযোজন।
অভিনয়ে অসাধারণ পারদর্শিতার জন্য তিনি অর্জন করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা।
স্নিগ্ধ হাসি, মাধুর্যময় অভিব্যক্তি ও পরিমিত অভিনয়শৈলীর জন্যই তিনি দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন পেয়েছেন। আজও তিনি আমাদের প্রিয় নায়িকা, এক অনবদ্য আইকন।
এই বিশেষ দিনে প্রিয়দর্শিনী মৌসুমীর প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।
তাঁর জীবনের প্রতিটি দিন হোক সাফল্য, আলো ও আনন্দে ভরপুর।
