বাংলা গানের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম— এন্ড্রু কিশোর।১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতা ক্ষীতিশ চন্দ্র বাড়ৈ এবং মাতা মিনু বাড়ৈ ছিলেন রাজশাহীর একটি হাসপাতালে কর্মরত। সংগীতপ্রেমী মা তাঁর প্রিয় শিল্পী কিশোর কুমারের নাম অনুসারে সন্তানের নাম রাখেন ‘কিশোর’। সেই নামই একদিন বাংলা গানের ইতিহাসে হয়ে ওঠে এক অবিস্মরণীয় কিংবদন্তি।
ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের হাতেখড়ি মায়ের কাছেই। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের দিনগুলো কেটেছে রাজশাহীর মাটিতেই।
আমাদের জীবনের সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা, বেদনা, আশা-নিরাশার প্রতিটি অনুভূতি তাঁর কণ্ঠেই যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
“সবাই তো ভালোবাসা পায়, কেউ পায়, কেউবা হারায়...”
— এমন অসংখ্য গান আজও প্রতিধ্বনিত হয় কোটি ভক্তের হৃদয়ে।
পুরস্কার ও সম্মাননা:
৭ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
৫ বার বাচসাস পুরস্কার
২ বার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার
এছাড়াও অসংখ্য সম্মাননা ও শ্রোতাদের অফুরন্ত ভালোবাসা তাঁর প্রাপ্তি।
২০২০ সালের ৬ জুলাই, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৬৪ বছর বয়সে তিনি পরপারে পাড়ি জমান। তাঁর প্রয়াণে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল গোটা বাংলা সংগীতাঙ্গন।
২০২৪ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক-এ ভূষিত করে, সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ।
ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন স্নেহময় স্বামী, নিবেদিত পিতা ও একজন সহৃদয় মানুষ। স্ত্রী লিপিকা অ্যান্ড্রু ইতি, কন্যা মিনিম অ্যান্ড্রু সংজ্ঞা এবং পুত্র জয় অ্যান্ড্রু সপ্তক— এই পরিবারই ছিল তাঁর ভালোবাসার আশ্রয়।
তিনি সত্যিই চলে গেছেন, আমরাও একদিন চলে যাবো—
তবুও প্রশ্ন রয়ে যায়,
“তিনি বেঁচে আছেন তাঁর সৃষ্টির মধ্যে,
আমরা কি বাঁচতে পারব আমাদের সৃষ্টির মধ্যে?”
আজ বাংলা গানের প্রাণপুরুষ, কিংবদন্তি শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
আপনিই আমাদের হৃদয়ের গহীনে চিরজাগরুক এক কণ্ঠ…
আপনি নেই— তবুও আপনি আছেন, প্রতিটি গানে, প্রতিটি ভালোবাসায়।
