জুলাই বিপ্লবের অন্যতম শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, হাদির খুনিরা যদি দেশের বাইরেও পালিয়ে থাকে, তবে তাদের সেখান থেকে খুঁজে বের করে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে ঝালকাঠির নলছিটি লঞ্চঘাটের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি লঞ্চ ঘাট’ নামকরণের ফলক উন্মোচন শেষে এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেকের মুখোশ উন্মোচিত করা হবে। তদন্তের পুরো বিষয়টি চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়েই দেশবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।” তিনি আরও বলেন, হাদির নাম এখন আর কেবল বাংলাদেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বিশ্বজুড়ে বিপ্লবীদের প্রেরণা হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতেই হাদির স্মৃতি রক্ষার্থে এই লঞ্চঘাটের নামকরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাদির বোন মাছুমা হাদি তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, এই হত্যার পেছনে শেখ হাসিনা, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং এ দেশের নির্দিষ্ট কিছু রাজনীতিকের হাত রয়েছে। তিনি বলেন, “হাদির মাথায় গুলি করা মানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর গুলি করা। আমি এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের জনসমক্ষে বিচার চাই।”
অনুষ্ঠান চলাকালে হাদির সহকর্মী ও স্থানীয় জনতা বিচারের দাবিতে ব্যানারসহ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। উল্লেখ্য, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সরব হাদি ‘সীমান্ত শরিফ’ ছদ্মনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ চালিয়ে আসছিলেন।
