শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২৬
 শিরোনাম
রাশিয়ার শীর্ষ জেনারেলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ কন্যা সন্তানের পিতা হলেন ব্যাচেলার পয়েন্ট এর কাবিলা ৷ চবি মেধাবী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরাদেহ উদ্ধার,শালিখায় শেষকৃত্য সম্পন্ন সন্ত্রাসীদের বিচার ও শাস্তির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শ্রীমঙ্গলে : আসিফ মাহমুদ চট্টগ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে শিশু নির্বাচনের দায়িত্বে কোনো আওয়ামী লীগের দোসর নেই, সবাই সৎ অফিসার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উত্তরায় কাঁচাবাজারে আগুন, ভোট নিয়ে অন্য দেশের মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই: রিজওয়ানা বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে চলচিত্র নির্মান করতে চান রায়হান রাফি। শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো রাশিয়া

গ্রুপ ইন সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

গ্রুপ ইন সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

গ্রুপ ইন সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

গ্রুপ ইন সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোঃ নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ভয়াবহ প্রতারণা ও চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট নৌ পুলিশের দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে কুষ্টিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা বিভাগীয় প্রেসক্লাবের কুষ্টিয়া জেলা শাখার কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খন্দকার ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী খন্দকার সোহেল ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গ্রুপ ইন সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোঃ নাসির উদ্দিন ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগের নামে লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কর্তৃক ইজারাপ্রাপ্ত মোঃ নাসির উদ্দিন গত বছরের ২৮ মে ২০২৫ তারিখে নিজে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখান। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরের জন্য আদায় সংক্রান্ত দায়িত্ব হস্তান্তরের একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সম্পাদিত এই চুক্তির বিপরীতে নগদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ২ কোটি ৩১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। এছাড়া দৈনিক কালেকশন বাবদ বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হলেও আজ পর্যন্ত চুক্তিতে উল্লেখিত কোনো স্থান বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর দাবি, চুক্তির শর্ত উপেক্ষা করে মোঃ নাসির উদ্দিন ইতোমধ্যে গোয়ালন্দ ঘাট অন্য এক ব্যক্তির কাছে অধিক মূল্যে হস্তান্তর করেছেন। একই সঙ্গে চুক্তিভুক্ত এলাকাগুলোতে অন্য লোকজন দিয়ে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এতে তার নিয়োজিত কর্মচারীরা মারধর, ভয়ভীতি ও হয়রানিমূলক মামলার শিকার হচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঈশ্বরদী নৌ পুলিশের মাধ্যমে খন্দকার সোহেল ইসলাম ও তার কর্মচারীদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন। এতে তিনি আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে তিনি আইনগত সহায়তা গ্রহণ করে গত ১৩ নভেম্বর, ২৭ নভেম্বর এবং চলতি মাসের ৫ জানুয়ারি ধারাবাহিকভাবে তিনটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। তবে প্রতিপক্ষ কোনো জবাব না দিয়ে উল্টো বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সর্বশেষ সাত দিনের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী স্থান বুঝিয়ে দেওয়া অথবা গ্রহণকৃত অর্থ ক্ষতিপূরণসহ ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়েরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

খন্দকার সোহেল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিষয়টি লিখিতভাবে পুলিশকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ুএমন দায়িত্ব অবহেলা শুধু একজন ভুক্তভোগীকেই নয়, বরং পুরো বিচারব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”

দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
মীর রকিবুল ইসলাম