নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার পাঠাকাটা এলাকার ঐতিহ্যবাহী বিনোদপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষের ছাদ ও দেয়ালে ফাটল, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং নিরাপত্তাহীন পরিবেশের কারণে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
পুরাতন ভবনের পাশেই আরেকটি ভবন থাকলেও সেখানে জানালার অভাব ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে বই-খাতা ভিজে যাওয়াসহ নানা ভোগান্তিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ মাদ্রাসার সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয় ২০০১ সালে। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও নতুন কোনো টেকসই ভবন নির্মাণ না হওয়ায় বর্তমানে শ্রেণিকক্ষগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একপর্যায়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল (ঢাকা) থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সীমিত পরিসরে একটি নির্মাণ কাজ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় ছিল অত্যন্ত অপ্রতুল।
মাদ্রাসার সুপার আব্দুল বারী বলেন,
“দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। নতুন ভবন হলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়বে এবং পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত হবে, যা ভালো ফলাফলেও সহায়ক হবে।”
মাদ্রাসার শিক্ষক মোস্তাক আহমেদ বলেন,
“একটি নতুন ভবন হলে পাঠদানের পরিবেশ অনেক উন্নত হতো। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সবাই উপকৃত হতেন। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।”
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মানিক জানায়,
“বৃষ্টি হলে ক্লাস করা যায় না। বই-খাতা ভিজে যায়, খুব সমস্যা হয়। যদি নতুন ভবন হয়, তাহলে আমরা নিরাপদে ক্লাস করতে পারবো এবং উপস্থিতিও বাড়বে।”
বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক ও কর্মচারীসহ মোট ১৮ জন স্টাফ কর্মরত রয়েছেন। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) প্রদীপ কুমার সরকার বলেন,
“প্রতিষ্ঠানটির সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”
নাজমুল হক
নওগাঁ জেলা