ইরানের হরমোজগান প্রদেশের দক্ষিণ উপকূলে মৌসুমভিত্তিকভাবে ২ হাজারের বেশি ফ্লেমিংগোর আগমন ঘটে। প্রতি বছর পরিযায়ী পাখিদের এই আগমন পরিবেশগত স্থিতিশীলতাকে প্রতিফলিত করে এবং অঞ্চলটির ইকো-ট্যুরিজম সম্ভাবনাকে তুলে ধরে।
হরমোজগান প্রদেশের পরিবেশ সুরক্ষা সাধারণ দপ্তরের উপপ্রধান মেইসাম ঘাসেমি বলেন, প্রদেশটির ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য এটিকে পরিযায়ী পাখিদের, বিশেষ করে ফ্লেমিংগোদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শীতকালীন আবাসস্থলে পরিণত করেছে।
ঘাসেমি ব্যাখ্যা করেন, ইরানের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত হরমোজগান প্রদেশে ২ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি উপকূলীয় এলাকা, অসংখ্য জোয়ার-ভাটার জলাভূমি এবং ম্যানগ্রোভ বন রয়েছে, যা পরিযায়ী প্রজাতির জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
তিনি জানান, এই অঞ্চলে ফ্লেমিংগোদের অভিবাসন ইরানি মাস আজার থেকে (২২ নভেম্বর থেকে শুরু) শুরু হয় এবং শীতের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। শীতকাল টিকে থাকতে এবং বসন্তকালীন অভিবাসনের জন্য শক্তি সঞ্চয় করতে পাখিগুলো খাদ্যসমৃদ্ধ জলাভূমি ও জোয়ারভাটার তীরভূমির ওপর নির্ভর করে।
তিনি বলেন, বান্দর আব্বাস উপকূলে ফ্লেমিংগোদের উপস্থিতি পরিবেশগত সুস্থতা ও টেকসই পরিবেশের একটি সূচক হিসেবে কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, এই দৃশ্য জনসাধারণের মধ্যে প্রকৃতি সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায় এবং বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে আগ্রহী পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।
সর্বশেষ মধ্য-শীতকালীন পাখি গণনার তথ্য উল্লেখ করে ঘাসেমি জানান, হরমোজগানের উপকূলীয় অঞ্চল ও জলাভূমিগুলোতে ২ হাজারের বেশি ফ্লেমিংগো নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২৩০টি ফ্লেমিংগো ডওলাত ও ভেলায়াত পার্কের নিকটবর্তী বান্দর আব্বাস উপকূলে দেখা গেছে।
তিনি আরও জানান, বিশ্ব জলাভূমি দিবস আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ‘ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ব্যবহার করে জলাভূমি সুরক্ষা’ প্রতিপাদ্যে পালিত হবে।
