মাগুরা শালিখা উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক স্বল্পতা বিরাজ করছে। অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
উপজেলার একাধিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, নির্ধারিত পদের বিপরীতে শিক্ষক কর্মরত আছেন কম সংখ্যায়। ফলে একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণিতে একসঙ্গে পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা যথাযথ মনোযোগ ও দিকনির্দেশনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ পরিস্থিতি সামাল দিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে বিভিন্ন সময়ে ১৬ জন শিক্ষককে ডেপুটেশনে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সংযুক্ত করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যায়, যেখানে শিক্ষকের ঘাটতি বেশি, সেসব বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনের মাধ্যমে শিক্ষক পাঠানো হয়েছে, যাতে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।
আড়পাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়র প্রধান শিক্ষক ইয়াসমিন আক্তার জানান, বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৮৫৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এই শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য ১৪ জন শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকের স্বল্পতার কারণে সব শ্রেণিতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আরও ৩ জন শিক্ষক চেয়ে আবেদন করেন। পরবর্তীতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ৩ জন শিক্ষককে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১৭ জন শিক্ষক কর্মরত থাকায় পাঠদানের মান উন্নত হয়েছে বলে তিনি জানান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাঃ হেনায়ারা খানম বলেন, “শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশনায় কয়েকজন শিক্ষকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে। উপজেলায় বর্তমানে ১৬ জন শিক্ষক ডেপুটেশনে কর্মরত আছেন বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা দ্রুত শূন্যপদ পূরণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রাথমিক স্তরেই শিক্ষার ভিত্তি গড়ে ওঠে। এ পর্যায়ে শিক্ষক সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
