দেশের জনপ্রিয় গীতিকার ও সংগীত পরিচালক মিল্টন খন্দকার। তিনি শ্রোতাপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরকে নিয়ে এক চমকপ্রদ ও আবেগঘন অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তার সোশ্যাল মিডিয়ায়।
আসিফের জন্মদিন উপলক্ষে দেওয়া তার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসটি অনুরাগীদের বেশ মুগ্ধ করেছে।
স্ট্যাটাসে মিল্টন খন্দকার ফিরে যান আজ থেকে প্রায় দুই যুগ আগের এক স্মৃতিতে। সে সময় যশোর অঞ্চলের এক মেধাবী স্কুল শিক্ষার্থীর কিডনি সমস্যার চিকিৎসার জন্য আয়োজন করা হয়েছিল একটি চ্যারিটি শো। ওই শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে স্থানীয়ভাবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়, যেখানে জনপ্রিয় কোনো শিল্পীকে আনার পরিকল্পনা ছিল আয়োজকদের।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে আসিফ আকবরকে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয় এবং সেই দায়িত্ব পড়ে মিল্টন খন্দকারের ওপর। তিনি চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি শিল্পীর কাছে পৌঁছে দেন। তবে চিঠি পাওয়ার পর প্রথমদিকে আসিফ আকবরের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সম্মানী দাবি এবং কিছু শর্তের কথা জানানো হয়। এতে আয়োজকদের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি ও হতাশার সৃষ্টি হয়।
মিল্টন খন্দকার তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, ওই সময় ছোট ভাইয়েরা তার কাছে এসে বিষয়টি জানালে তিনি কিছুটা বিস্মিত হন। এমনকি বিকল্প শিল্পী নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির (এমপি) ইচ্ছা-অনুষ্ঠানে আসিফ আকবরই থাকবেন।
পরবর্তীতে নির্ধারিত দিনে অনুষ্ঠিত হয় সেই চ্যারিটি শো। তবে ঘটনার মোড় ঘুরে যায় অনুষ্ঠানের মঞ্চেই। আসিফ আকবর তার দলবল নিয়ে সময়মতো উপস্থিত হন এবং স্বাভাবিকভাবেই গান পরিবেশন করেন। সবকিছুই পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে থাকে।
কিন্তু অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মঞ্চে উঠে তিনি ডাক দেন অসুস্থ শিক্ষার্থীর মাকে। সেই সঙ্গে উপস্থিত এমপি, ডিসিসহ অন্যান্য অতিথিদেরও মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান। এরপর সবার সামনে নিজের পারিশ্রমিক এবং তার সঙ্গে থাকা সংগীতশিল্পীদের সম্মানীসহ পুরো অর্থ তুলে দেন ওই শিক্ষার্থীর মায়ের হাতে। নিজের জন্য এক পয়সাও রাখেননি তিনি।
এই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মিল্টন খন্দকার জানান, সেই সময় উপস্থিত দর্শকরা করতালিতে ফেটে পড়েন। পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে তৈরি হয় আবেগঘন এক পরিবেশ। অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
তিনি আরও জানান, আসিফ আকবর ভালোভাবেই জানতেন যে অনেক সময় চ্যারিটি শোর সংগৃহীত অর্থ প্রকৃত প্রাপকের হাতে পৌঁছায় না। আর সেই কারণেই তিনি সবার সামনে সরাসরি অর্থ তুলে দেন, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের সুযোগ না থাকে।
শুধু অর্থ তুলে দেওয়াই নয়, ওই অর্থ যেন সঠিকভাবে শিক্ষার্থীর চিকিৎসার কাজে ব্যয় হয়-সেই বিষয়েও উপস্থিত এমপি ও ডিসি কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান এই সংগীতশিল্পী।
স্ট্যাটাসে মিল্টন খন্দকার আরও লেখেন, অনুষ্ঠানের পর আসিফ আকবর আয়োজকদের ডেকে বলেন-জীবনে প্রথমবার ‘উস্তাদের’ কাছ থেকে পাওয়া চিঠির মর্যাদা রাখতেই তিনি এমনটি করেছেন। ভবিষ্যতে আরও অনেক কিছু করার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
