মুহাম্মদ সুজন মোল্লা
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জে অ্যাপভিত্তিক তেল বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিবন্ধিত গ্রাহকদের তথ্যভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরি করে তেল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সংকট মোকাবিলায় নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত জ্বালানি তেল পরিস্থিতি মনিটরিং বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় পেট্রলপাম্প মালিকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ অংশ নেন।
সভায় জানানো হয়, নতুন এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকদের নিবন্ধন সম্পন্ন করা হবে। এরপর সেই তথ্য দিয়ে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করা হবে, যার ভিত্তিতে পেট্রলপাম্পগুলো থেকে তেল সরবরাহ করা হবে। এমন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করা হলে একজন গ্রাহক দিনে একাধিক পাম্প থেকে তেল নিতে পারবেন না।
পাম্প মালিকরা সভায় বর্তমান সংকটের চিত্র তুলে ধরে জানান, ডিপো থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অথচ চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর ফলে প্রতিদিনই পাম্পগুলোতে বাড়ছে চাপ, তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সারি ও হুড়োহুড়ির কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা। দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ ও সরবরাহের কারণে পেট্রলপাম্পগুলো এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সামান্য বিশৃঙ্খলাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মানিকগঞ্জ-সাভার অঞ্চলের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমরাও সংকটে আছি। আগের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কম তেল পাচ্ছি, কিন্তু চাহিদা বেড়েই চলেছে। এতে পাম্পে শৃঙ্খলা রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।” তিনি পাম্পগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েনের দাবিও জানান।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, অ্যাপভিত্তিক এই নতুন ব্যবস্থা চালু হলে সরবরাহে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং কৃত্রিম সংকট কিংবা অতিরিক্ত মজুতের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি গ্রাহকদের মধ্যে ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করাও সহজ হবে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, খুব শিগগিরই পরীক্ষামূলকভাবে এই অ্যাপভিত্তিক কার্যক্রম চালু করা হবে। সফলতা পেলে এটি স্থায়ীভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।