আর মাত্র দুই মাসের অপেক্ষা। এর পরই মাঠে গড়াবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ আসর। আগামী ১১ জুন থেকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে শুরু হবে বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টটি।
এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপের মহোৎসব আবারও উত্তর আমেরিকায় ফিরছে। এবারের আসরে মহাদেশটির তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো বিশ্বকাপের আয়োজক হয়েছে।
ফুটবল বিশ্বের এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই শুরুর ক্ষণগণনা যখন তুঙ্গে, তখন স্মৃতিপটে ভেসে উঠছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা কিছু মুহূর্ত। যার মধ্যে অন্যতম সৌদি আরবের কিংবদন্তি সাঈদ আল-ওয়াইরানের ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের অবিশ্বাস্য একক নৈপুণ্য।
সেই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম এবং মরক্কোর মতো শক্তিশালী দলগুলোর ভিড়ে নকআউট পর্বে যেতে হলে শেষ ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না সৌদি আরবের সামনে।
ওয়াশিংটনের আরএফকে স্টেডিয়ামে ম্যাচের মাত্র পাঁচ মিনিটেই ফুটবল বিশ্ব সাক্ষী হয় এক জাদুকরী মুহূর্তের। নিজেদের অর্ধ থেকে বল পেয়ে একক নৈপুণ্যে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ চূর্ণ করে গোল করেন আল-ওয়াইরান।
পরে এই গোলের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেছিলেন, ‘এটি আমার জীবনের সেরা গোল। আমি এই গোলটি বিশ্বের প্রতিটি সৌদি নাগরিক এবং প্রতিটি আরবের জন্য করেছি।’
সেই ঐতিহাসিক জয়ে সৌদি আরব প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের অভিষেক আসরেই নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়। যদিও শেষ ষোলোতে সুইডেনের কাছে হেরে তাদের যাত্রা থামে, কিন্তু আল-ওয়াইরান রাতারাতি তারকা বনে যান। তার এই অসামান্য গোলের জন্য তাকে ‘আরবের ম্যারাডোনা’ উপাধি দেওয়া হয়।
তার একক প্রচেষ্টায় করা এই গোলটি ফিফার ‘শতাব্দীর সেরা বিশ্বকাপ গোল’ নির্বাচনে ষষ্ঠ স্থান দখল করে। সেই বছরই তিনি ‘এশিয়ান ফুটবলার অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হন। এছাড়া জাতীয় বীর হিসেবে তাকে একটি বিলাসবহুল ‘রোলস রয়েস’ গাড়ি উপহার দেওয়া হয়।
