সোমবার, মে ১৮, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সাতক্ষীরার সুন্দরবনে কাঁকড়া শিকারিকে গুলি করে হত্যা

সাতক্ষীরার সুন্দরবনে কাঁকড়া শিকারিকে গুলি করে হত্যা

সাতক্ষীরার সুন্দরবনে কাঁকড়া শিকারিকে গুলি করে হত্যা

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলসংলগ্ন সুন্দরবনে গুলি করে আমিনুর গাজী (৩৪) নামে এক কাঁকড়া শিকারিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বনবিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। নিহত আমিনুর গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা গ্রামের আকছেদ গাজীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈধ পাস নিয়ে কয়েকদিন আগে চারজন জেলে দুটি নৌকায় করে সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে যান। সোমবার (১৮ মে) সকালে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় অবস্থানকালে বনবিভাগের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে আমিনুর গাজী গুলিবিদ্ধ হন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নিহতের সহযাত্রীরা মরদেহ নিয়ে লোকালয়ে ফিরে আসলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবার-পরিজনের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
 

গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদুল আলম বলেন, “ফরেস্টারের গুলিতে জেলে আমিনুর রহমান নিহত হয়েছেন। তারা চারজন দুটি নৌকায় করে সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন। সকালে তাদের দেখে মোবারক নামে এক বন কর্মকর্তা গুলি করেন। পরে কাছে গিয়ে দেখেন আমিনুর মারা যাচ্ছেন। এরপর তিনি ফিরে আসেন।”
তিনি আরও বলেন, “জেলেরা সাতক্ষীরা রেঞ্জের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন। দুপুরে মরদেহ লোকালয়ে নিয়ে আসা হলে পরিবার ও গ্রামবাসীদের মাঝে শোকের মাতম শুরু হয়। বর্তমানে আমরা মরদেহের সঙ্গে আছি এবং ফরেস্ট অফিস ঘেরাও করতে যাচ্ছি।”
 

তবে অভিযোগের বিষয়ে বনবিভাগের সংশ্লিষ্ট রেঞ্জার ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, “বনবিভাগের কেউ গুলি চালিয়েছে এমন তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ডাকাতদের গুলিতে নাকি কোস্টগার্ডের গুলিতে মারা গেছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বনবিভাগের গুলিতে মারা গেলে কেন গুলি করা হয়েছে, সেটির জবাবদিহি অবশ্যই করতে হবে।”
 

তিনি আরও বলেন, “মোবারক নামে এক কর্মকর্তার নাম আসছে, তবে এখনো তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।”
ঘটনাটি ঘিরে পুরো উপকূলজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। 

আবু জাফর, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: