উৎসবমুখর পরিবেশ ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে যশোরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করে নেওয়া হয়েছে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে শহরের টাউন হল মাঠ থেকে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়।
আনন্দ ও বাঙালিয়ানা রঙে সাজানো এই শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আদ-দ্বীন রোড প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টাউন হল মাঠে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রাজুড়ে ছিল গ্রামীণ সংস্কৃতির নানা উপকরণ, বিশালাকার মুখোশ, ফেস্টুন এবং লোকজ ঐতিহ্যের প্রতীকী উপস্থাপনা—যা উপস্থিত দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে।
শোভাযাত্রায় অংশ নেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, এনএসআই কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক আবু তাহের মোঃ পারভেজ, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি'র সভাপতি দেলোয়ার হোসেন খোকন, দৈনিক লোকসমাজের প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোর জেলা শাখার সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন, চারুপিঠ আর্ট অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা মাহাবুব মাসুদ জামিলসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।
এছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিল্পী, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো শহর উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে জানা যায়, মুঘল সম্রাট আকবরের সময় প্রবর্তিত বাংলা সনের ধারাবাহিকতা এবং ১৯৮৯ সালে চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে শুরু হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রার অনুকরণে যশোরে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা জানান, নতুন প্রজন্মকে বাঙালির শেকড়, ঐতিহ্য এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই এমন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শোভাযাত্রা শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বক্তারা বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির সর্বজনীন উৎসব। এটি কেবল আনন্দের উপলক্ষ নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ঐক্য ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির বার্তা বহন করে।
দিনব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত পরিবেশনা ও লোকজ আয়োজনে যশোরবাসী নতুন বছরকে উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে।
কল্যান রায় জয়ন্ত