কিছুদিন আগেই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে ‘চক্র ২’। ভিকি জাহেদ পরিচালিত এই সিরিজে ড. হুমায়ূন চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তৌসিফ মাহবুব। সিরিজ, বৈশাখ, ওটিটি ও সিনেমা—বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরুল নূর।
এবারের পহেলা বৈশাখ কিভাবে কাটছে?
এবার বৈশাখে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না।কারণ, আজকেও একটি নাটকের শুটিং করছি। জানি, এমন বিশেষ দিনে শুটিং না থাকলেই ভালো হতো, কিন্তু আর কোনো উপায় ছিল না। শুটিংটা যেন দুঃখজনক না হয় বাসা থেকে পান্তা-ইলিশ খেয়ে বের হওয়ার পর শুটিং সেটে এসে বৈশাখ উদযাপন করেছি। আবার পান্তা-ইলিশ খেয়েছি, গান গেয়েছি, মজা করেছি।ঈদে সিনেমার বাইরে শুধু ‘চক্র ২’ আলোচনায় ছিল।
এবার বৈশাখে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না।
বাঙালির চিরাচরিত এই উৎসবে ঘিরে কোনো মজার স্মৃতি থাকলে শেয়ার করবেন...
বৈশাখ নিয়ে অনেক মজার স্মৃতি আছে। আমার কাছে বৈশাখ মানেই রমনার বটমূল, মানেই মেলায় ঘুরে বেড়ানো। একবার বাঘের মুখোশ পরে মেলায় গিয়েছিলাম—যেন কেউ চিনতে না পারে এবং নির্ভয়ে উপভোগ করতে পারি।কিছুটা ভয় লাগছিল, তবে অভিজ্ঞতাটা দারুণ ছিল। মনে হয়েছিল, অদৃশ্য হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি।‘চক্র ২’ নিয়ে দর্শকের এত আলোচনা—কেমন উপভোগ করছেন?
সিরিজটি নিয়ে দর্শকের প্রতিটি পোস্ট, রিভিউ, আলোচনা এমনকী সমালোচনা—সবকিছুই আমার হৃদয়ের গভীরে গিয়ে বিঁধছে। কারণ, এটা আমার অনেক দিনের সাধনার কাজ। আমার পরিশ্রম এভাবে স্বীকৃতি পাবে, সত্যিই কল্পনা করিনি।এজন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ।
দর্শক প্রতিক্রিয়া কি আপনার প্রত্যাশা পূরণ করেছে?
শুধু পূরণই করেনি, প্রত্যাশার ছাদ ভেঙে পেরিয়ে গেছে অর্থাৎ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। প্ল্যাটফর্ম অনুযায়ী যতটুকু সাড়া পাওয়ার কথা, তার থেকেও সিরিজটি অনেক অনেক বেশি সাড়া পেয়েছে। এবারের ঈদে সিনেমার পাশাপাশি যদি কোনো কনটেন্ট আলোচনায় থাকে, সেটি ‘চক্র ২’। ওয়েব সিরিজ হিসেবে এটি আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। এটা একটু ভিন্ন ধারার এবং মাত্রার কাজ, দর্শকরা যেভাবে কাজটিকে এবং আমাকে গ্রহণ করেছে তাদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। ‘চক্র ৩’ কি দর্শক সাড়ার কারণে আসছে, নাকি আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল?
এটি আগে থেকেই পরিকল্পিত। ‘চক্র ২’ করার আগেই আমরা ধারাবাহিকভাবে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সিরিজের শেষে ‘চক্র ৩’-এর ঘোষণাও দেওয়া আছে। ভবিষ্যতে আরো সিজন আসবে কি না, সেটাই এখন প্রশ্ন।
ওটিটিতে আসতে এত সময় নিলেন কেন?
আমি সময় নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি। আমার মনে হয়, সঠিক সময় না হলে কিছুই সঠিকভাবে আসে না। ক্যালিভার অনুযায়ী যে ধরণের গল্পে ওটিটিতে আমার অভিষেক হোক চাচ্ছিলাম, সে রকম গল্প পাচ্ছিলাম না। সেটা ব্যাড লাকও বলতে পারেন আবার গুড লাকও। এর মধ্যে নাটকে ‘খোয়াবনামা’, ‘ফার্স্ট লাভ’, ‘এমন দিনে তারে বলা যায়’, এমনকি ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর মতো কাজ করেছি। এই কাজগুলোর পরে গিয়ে আমি ‘চক্র’-এর মতো একটা কাজ পাই। অন্যদের সাথে একই সময়ে ওটিটিতে কাজ করতে না পারলেও অনেক কিছু শিখেছি, যে কি না সামনে অনেক কিছু করতে চায়। সেটা একজন শিল্পী হিসেবে, এমনকি মানুষ হিসেবেও।ড. হুমায়ূন চরিত্রে অভিনয়ের চ্যালেঞ্জ কেমন ছিল?
যারা সিরিজটি দেখেননি, তারা হয়তো ভাবছেন হুমায়ূন একজন ডক্টর। কিন্তু চরিত্রটি একের ভেতর অনেক। এটিকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে আমাকে অনেক রিসার্চ করতে হয়েছে, প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। গল্প শোনার পর চরিত্রটি সম্পর্কে জানার পর আমি সেটা নিয়ে হোমওয়ার্ক করতে শুরু করি। শয়তান কিংবা শয়তানের বংশধরের চরিত্র হলেও কোনো ‘এভিল’ সংলাপ ছাড়া, একদম ফেরেশতার বেশে এটা ফুটিয়ে তুলতে আমার বেশ পরিশ্রম করতে হয়েছে। এর জন্য অবশ্যই ভিকি জাহেদের কাছে কৃতজ্ঞ। তার কারণেই চরিত্রটি ড. হুমায়ূন হয়ে উঠতে পেরেছে।
এখন কি নাটক কমিয়ে ওটিটিতে বেশি মনোযোগ দেবেন?
নাটকের কাজ আমি আগেই কিছুটা কমিয়েছি। কারণ, একটি চরিত্রকে সময় দিয়ে ভালোভাবে পর্দায় উপস্থাপন করতে চাই। তারই একটা পূর্ণ ফলাফল হচ্ছে ‘চক্র ২’। এই কাজটা সাকসেসফুল হওয়ার পর অন্যান্য ওটিটি প্লাটফর্ম থেকেও রেসপন্স পাচ্ছি। তারা আমাকে নিয়ে কাজের আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আমার প্রতি দর্শকের যে ভরসা তৈরি হয়েছে, সেটাকে ধরে রাখতে চাই এবং আগামীতে এর চেয়েও অনেক ভালো কাজ উপহার দিতে চাই।
আপনার সহশিল্পীদের অনেকেই সিনেমায় নিয়মিত হচ্ছেন। আপনাকে দর্শক কবে বড় পর্দায় পাবে?
সিনেমা আমার কাছে অনেক বড় দায়িত্বের জায়গা। শুধু পর্দায় আসা বা নিজের চেহারা দেখানোর জন্য সিনেমায় কাজ করতে চাই না। আমি এখনো নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত মনে করি না। যখন মনে হবে, সিনেমার সব দিক বুঝতে পেরেছি এবং দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পারব, তখনই বড় পর্দায় আসব। দর্শকের আস্থা যখন আরো দৃঢ় হবে, তখনই সেই সিদ্ধান্ত নেব। আমি চাই না, আমার দর্শক কখনো হতাশ হোক।
