এশিয়ার জলসীমায় ইরানের পতাকাবাহী অন্তত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। জাহাজগুলোকে তাদের অবস্থান ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার উপকূলসংলগ্ন এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে শিপিং ও নিরাপত্তা সূত্র।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমুদ্রপথে বাণিজ্যের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে। অন্যদিকে ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজেগুলো চালিয়েছে।
প্রায় দুই মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত চললেও অস্থির যুদ্ধবিরতির মধ্যেও শান্তি আলোচনার তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরো তীব্র হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী একটি ইরানি কার্গো জাহাজ ও একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে।
একই সময়ে ইরান জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগর ত্যাগের চেষ্টা করা দুটি কনটেইনার জাহাজ আটক করেছে। সংঘাত শুরুর পর এটাই তাদের প্রথম জাহাজ জব্দের ঘটনা।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র অন্তত আরও তিনটি ইরানি পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। এর মধ্যে ‘ডিপ সি’ নামের একটি সুপারট্যাংকারকে আংশিক তেলবোঝাই অবস্থায় মালয়েশিয়ার উপকূলের কাছে সর্বশেষ দেখা গেছে।
এ ছাড়া প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতার ‘সেভিন’ নামের একটি ছোট ট্যাংকারও আটক করা হয়েছে। জাহাজটি প্রায় ৬৫ শতাংশ তেলবোঝাই ছিল।
প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলসহ আরেকটি সুপারট্যাংকার ‘ডোরেনা’-কে ভারতের দক্ষিণ উপকূলের কাছে আটক করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, জাহাজটি অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া ‘দেরিয়া’ নামের আরেকটি ট্যাংকারও আটক হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
