যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের অংশ হিসেবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেশটির অন্যতম শীর্ষ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসকে প্রায় ২০ কোটি মার্কিন ডএক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এলবিট সিস্টেমস আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র ব্যবস্থায় তাদের ‘প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের’ কথা তুলে ধরে জানায়, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এই দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের জন্য তারা গর্বিতলার মূল্যের উন্নত আকাশপথে ব্যবহারযোগ্য গোলাবারুদ সরবরাহের কার্যাদেএলবিটের দাবি অনুযায়ী, তাদের উৎপাদিত এই অত্যাধুনিক গোলাবারুদগুলো ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর আকাশপথে নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রাখার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিরক্ষা সংগ্রহ অধিদপ্তর এই চুক্তির নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং তাদের মতে, এই বিশাল বিনিয়োমন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে, ‘তৎক্ষণাৎ যুদ্ধ পরিস্থিতি’ মোকাবেলা এবং আগত একটি ‘তীব্র নিরাপত্তাহীন দশক’ এর জন্য সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন যে, এটি ইসরায়েলের নিজস্ব গোলাবারুদ সরবরাহ ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও সক্ষমতাকে সুসংহত করার একটি বিশেষ প্রয়াস।
গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে যখন আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জোরালো হচ্ছে, ঠিক তখনই এই বিশাল অংকের সমরাস্ত্র ক্রয়ের খবর সামনে এলো।
উল্লেখ্য, গত বুধবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত মোট ৭২ হাজার ৬৫২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া একই সময়ে ইসরায়েলি আগ্রাসনে আরও ১ লাখ ৭২ হাজার ৩২০ জন মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।গের মূল লক্ষ্য হলো সমরাস্ত্রের ক্ষেত্রে তথাকথিত ‘স্বনির্ভরতা’ অর্জন করা।শ দিয়েছে।মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইসরায়েলের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করছে। তাদের মতে, যখন গাজায় মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে, তখন ইসরায়েলের এই ধরনের সমরাস্ত্র কেনা কেবল সংঘাতকেই দীর্ঘায়িত করবে।
এলবিট সিস্টেমস অবশ্য জানিয়েছে, তারা তাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই চুক্তির ফলে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর আক্রমণাত্মক ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।