মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
শুক্রবার (১ মার্চ) রাত ৯টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত টানা প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে এ সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নের নোহাটা গ্রামের বিএনপি কর্মী টিটন মোল্যা এবং আমতৈল গ্রামের স্থানীয় বিএনপি নেতা লিপটন মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে শুক্রবার রাতে লিপটন মিয়ার সমর্থকরা আশপাশের গ্রাম থেকে লোকজন জড়ো করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে টিটন মোল্যার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়।
এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষে টিটন মোল্যার সমর্থক ইদ্রিস বিশ্বাস, মজিদ শেখ, রাজু শেখ ও মন্টু শেখের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ সময় কয়েকটি গরু ও ছাগলও লুট করে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষ।
পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে টিটন মোল্যার সমর্থকরাও পাল্টা হামলা চালায়। তারা রিপন খানের দোকান, জোয়ার্দার বাড়ি, দাউদ ও তার ভাই গোলাম তহুরের বাড়ি এবং গোয়ালঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়। এছাড়া মিন্টু বিশ্বাসের বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী গোলাম তহুরের স্ত্রী নাসিমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, স্বামী ও দেবর বাড়িতে না থাকার সুযোগে হামলাকারীরা বাড়িতে আগুন দেয় এবং লুটপাট চালায়।
নোহাটা গ্রামের আনিচুর রহমানের স্ত্রী লিপি বেগম বলেন, “আমার স্বামী দিনমজুর। আমাদের সবকিছু ভেঙে দিয়েছে। এখন তিন সন্তান নিয়ে কোথায় থাকবো বুঝতে পারছি না।”
আল-আমিনের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, “রাতে বাচ্চাদের নিয়ে খুব ভয় পেয়েছিলাম। ঘরে ঢুকে সবকিছু ভেঙে ফেলে, এমনকি বাচ্চার সঞ্চয়ের টাকাও নিয়ে গেছে।”
শ্রীপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. আতাউর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, রাত ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ভোর ৩টার দিকে তা সম্পন্ন করা হয়। পরদিন সকালেও একটি ঘরে পুনরায় আগুন লাগার খবর পেয়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
মাগুরা প্রতিনিধি:
