কুষ্টিয়া এলজিডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) অফিসের প্রধান প্রকৌশলী রাজু আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে একটি অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারের প্ররোচনায় অনুমোদনহীন কিছু অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক তথাকথিত সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় কয়েকজন ব্যক্তি ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে কিছু নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভিডিও প্রকাশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব কার্যক্রমে এলজিডির ভেতরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরও যোগসাজশ ছিল। এর ফলে প্রকৌশলী রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় এলজিডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরিফ হোসেনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন ও ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কাজগুলোর মান যাচাই করে। তদন্তে দেখা যায়, যেসব কাজকে অনিয়ম বলে প্রচার করা হয়েছিল, তার অধিকাংশই প্রকৃতপক্ষে মানসম্মত ও নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া জানা গেছে, একাধিক কর্মকর্তা একই পদে যোগদানের আগ্রহ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
রাজু আহমেদ এ বিষয়ে জানান, তিনি সবসময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন। কোনো ঠিকাদার বা কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।
সম্প্রতি চারটি সড়ক নির্মাণকাজ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে এর মধ্যে একটি সড়কের তদন্ত ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি তিনটির তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
তিনি আরও বলেন, এলজিডির সুনাম রক্ষা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের মান বজায় রাখতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে আপস করা হবে না। একইসঙ্গে সৎভাবে কাজ করা ঠিকাদারদের সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
এ ঘটনায় কুষ্টিয়া এলজিডি অফিসে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মীর রকিবুল ইসলাম
