মাগুরা সদর উপজেলায় যৌতুকের টাকা না পেয়ে এক গৃহবধূকে মারধর করে মাথার চুল কেটে ঘরে আটকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত স্বামী দাউদ শেখ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
ঘটনাটি গত শুক্রবার (১ মে) রাতে সদর উপজেলার পুলিশ লাইন দক্ষিণপাড়া এলাকায় ঘটে।
ভুক্তভোগী বর্ষা খাতুন জানান, প্রায় চার বছর আগে তার বিয়ে হয় মোহাম্মদপুর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের দাউদ শেখের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী বিভিন্ন সময় তার কাছে টাকা দাবি করতেন। দাবি পূরণ না হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার অভিযোগ, গত ১ মে রাতে স্বামী আবারও ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার মাথার চুল কেটে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং একটি কক্ষে আটকে রেখে ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দেওয়া হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে দিয়ে জোরপূর্বক মিথ্যা বক্তব্য রেকর্ড করানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ৩ মে বিকেলে পুনরায় নির্যাতনের পর তাকে অসুস্থ অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যান স্বামী। পরে তার মা নাজমা খাতুন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, “আমার মেয়ের ওপর অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।” এ ঘটনায় পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে দাউদ শেখ মুঠোফোনে দাবি করেন, তিনি পেশায় ট্রাক চালক এবং অধিকাংশ সময় বাড়ির বাইরে থাকেন। তার অভিযোগ, এই সুযোগে তার স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন। বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় স্ত্রীর সম্মতিতেই তাকে “শাস্তি” দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া যৌতুক দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো: সাজ্জাদ হোসেন মাগুরা জেলা প্রতিনিধি
