সিরাজগঞ্জের বেলকুচি সদর ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারে উদ্যোক্তা নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে।
জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের নিয়োগপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকায় পদটি কার্যত শূন্য হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ওই পদে হারুন আলীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী উদ্যোক্তা পদে ন্যূনতম এসএসসি পাস বাধ্যতামূলক হলেও শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে হারুন আলী নিয়োগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তার প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণও নেই বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও কীভাবে কম যোগ্যতার একজন ব্যক্তি এই দায়িত্ব পেলেন, তা তাদের বোধগম্য নয়। তারা বিষয়টির স্বচ্ছ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযুক্ত হারুন আলীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বেলকুচি সদর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফয়সাল আহমেদ বলেন, “উদ্যোক্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। আবেদনপত্র আমরা উপজেলায় পাঠিয়ে দিই। তারাই কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে নিয়োগ দিয়ে থাকেন।”
বেলকুচি সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ভুট্টু বলেন, “নিয়োগ কমিটি নিয়োগ দিয়েছে। যদি নিয়োগে অনিয়ম পাওয়া যায়, তাহলে নিয়োগ বাতিল করা যেতে পারে। নিয়োগ বহাল রাখার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোনো সুপারিশ থাকবে না।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন, “উদ্যোক্তা নিয়োগে নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। কেউ যদি সেই নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিয়োগ পেয়ে থাকেন, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আল আমিন হোসেন (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
