বুধবার, জুলাই ২৯, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

হারানো গহনা খুঁজতে কবিরাজের গণনা, নোটিশে বিতর্ক

হারানো গহনা খুঁজতে কবিরাজের গণনা, নোটিশে বিতর্ক

হারানো গহনা খুঁজতে কবিরাজের গণনা, নোটিশে বিতর্ক

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণের চেইন উদ্ধারের ঘটনায় এক কবিরাজের “গণনার” ভিত্তিতে এক কাঠমিস্ত্রীর পরিবারকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নোটিশ দেওয়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের লাহিড়ীপাড়া গ্রামে।
 

জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর বাজারের পল্লী চিকিৎসক দুলাল হোসেনের স্ত্রী সুফিয়া খাতুনের প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের সাড়ে ৯ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন হারিয়ে যায়। তবে কোথায় এবং কীভাবে চেইনটি হারিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
পরিবারের দাবি, হারানো গহনা ফিরে পাওয়ার আশায় তারা পাশের চর বড়ধন গ্রামের কবিরাজ হাফেজ আসলামের শরণাপন্ন হন। অভিযোগ রয়েছে, কবিরাজ কাগজে লেখা কয়েকজনের নামের মধ্য থেকে লাহিড়ীপাড়ার কাঠমিস্ত্রী কাওছার আলী লাভুর পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে সৈকত (৯)-এর নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, ওই শিশুই স্বর্ণের চেইনটি কুড়িয়ে পেয়েছে।
 

এ ঘটনার পর থেকেই দুলাল হোসেন ও তার পরিবার লাভুর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, অন্য একটি মামলায় লাভুকে আসামি করে হয়রানিরও অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী কাঠমিস্ত্রী কাওছার আলী লাভু বলেন,
“কবিরাজের কথার ওপর ভিত্তি করে আমার নিষ্পাপ শিশুপুত্রকে চোর বানানো হয়েছে। আমরা বারবার বলেছি, স্বর্ণের চেইনের বিষয়ে কিছুই জানি না। তারপরও আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও হাজির হওয়ার জন্য সমন দেওয়া হয়েছে।”
 

তিনি আরও জানান, গত ৪ মে লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য গোপাল চন্দ্র ঘোষ তাদের পরিষদে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেন।
অন্যদিকে, পল্লী চিকিৎসক দুলাল হোসেন বলেন,
“কবিরাজ হাফেজ আসলাম গণনা করে নিশ্চিত করেছেন যে লাভুর ছেলে সৈকত স্বর্ণের চেইনটি কুড়িয়ে পেয়েছে। তাই আমরা ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করেছি।”
তবে এ বিষয়ে কবিরাজের গণনার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি।
 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কবিরাজ হাফেজ আসলাম বলেন,
“আমি প্রথমে বিষয়টি আমলে নিতে চাইনি। এখন এটা নিয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, এতে আমিও বিব্রত।”
তার এই শনাক্তকরণের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে গিয়ে বলেন,
“এ কারণেই আমি এগুলো করতে চাইনি।”
লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র ঘোষ বলেন,
“আমরা কবিরাজের কথায় বিশ্বাসী নই। দুলাল হোসেন অভিযোগ করায় বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের কথা শুনে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য লাভুকে নোটিশ করা হয়েছে। শিশুকে ডাকা হয়নি, তার বাবাকে ডাকা হয়েছে।”
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম আরিফ বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন,
“কবিরাজের কথার ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কাউকে হয়রানিমূলক নোটিশ দেওয়া ঠিক হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে থানায় অভিযোগ করতে পারে। আমরাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”
 

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছাড়াই একজন শিশুকে চোর আখ্যা দিয়ে একটি অসহায় পরিবারকে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে চাপের মুখে ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। 

আল আমিন হোসেন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: