নিউজ ডেস্ক :
ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি ও সম্মতি ছাড়াই শিশুদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে স্ট্রিমিং জায়ান্ট নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন এই মামলা করেছেন। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে আসক্তি তৈরির মতো করে ডিজাইনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
টেক্সাস কর্তৃপক্ষের দাবি, নেটফ্লিক্স বছরের পর বছর ধরে গ্রাহকদের মিথ্যা বলেছে। তাদের দাবি তারা ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ বা আদান-প্রদান করে না। অথচ বাস্তবে কোম্পানিটি দর্শকদের পছন্দ-অপছন্দ এবং দেখার অভ্যাসের ওপর নজরদারি চালিয়েছে। সেসব তথ্য বাণিজ্যিক ডেটা ব্রোকার ও বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোর কাছে বিক্রি করে বছরে কয়েক কোটি ডলার আয় করেছে।ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক এই কোম্পানিটির বিরুদ্ধে গোপনে ‘ডার্ক প্যাটার্ন’ ব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে দর্শকদের দীর্ঘক্ষণ প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে তাদের ‘অটোপ্লে’ ফিচারের কথা। যেখানে একটি শো শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরেকটি শুরু হয়।
এই অভিযোগের বিষয়ে নেটফ্লিক্সের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা আদালতে বিষয়টি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই মামলার ভিত্তি নেই। ভুল ও বিকৃত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। নেটফ্লিক্স ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় ও ডেটা সুরক্ষা আইন মেনে চলে।নেটফ্লিক্স ছাড়াও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগের কয়েকটি প্ল্যাটফর্মও এমন মামলার মুখে পড়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও গ্রাহকের তথ্য সংগ্রহ ও তা বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার হওয়া মামলায় নেটফ্লিক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রিড হেস্টিংসের ২০২০ সালের একটি উক্তি উদ্ধৃত করা হয়েছে। সে সময় আমাজন, ফেসবুক এবং গুগলের তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতির সঙ্গে নেটফ্লিক্সের পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে হেস্টিংস বলেছিলেন, ‘আমরা কোনো তথ্যই সংগ্রহ করি না।’
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আপনি যখন নেটফ্লিক্স দেখেন, তখন নেটফ্লিক্সও আপনাকে দেখে।’ এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাক্সটন বলেন, নেটফ্লিক্সের এই কথিত নজরদারি আইনের লঙ্ঘন। কোম্পানিটিকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা সমস্ত তথ্য মুছে ফেলতে হবে।
