সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌরসভা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তুপ জমে থাকা এবং ওয়াবদার খাল দূষিত হয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। রাস্তাঘাট, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার পাশে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ না হওয়ায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রসেস মিলের বর্জ্য ও কচুরিপানায় ভরে গিয়ে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ওয়াবদার খালটি এখন প্রায় মৃত খালে পরিণত হয়েছে।
এ পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেলকুচি পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হাজী আলতাফ হোসেন প্রামানিক। তিনি বলেন, “পৌরসভার নাগরিকদের সুস্থ, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করায় পরিবেশ দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং রোগব্যাধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের খালগুলো পরিষ্কার রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলীমের নির্দেশে আমরা জনগণের পাশে থেকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌর এলাকার সব ময়লার স্তুপ অপসারণ ও খাল পরিষ্কার করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলকুচি পৌরসভার সুবর্ণসারা কাঠের পুল থেকে মুকুন্দগাতী কড়ি তলা পর্যন্ত বিস্তৃত ওয়াবদার খালটি দীর্ঘদিন ধরে বিষাক্ত বর্জ্য পানির কারণে মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আশপাশের বিভিন্ন প্রসেস মিলের বর্জ্য পানি সরাসরি খালে ফেলা হচ্ছে। ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর সঙ্গে কচুরিপানা ও বিভিন্ন আবর্জনা জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খালের পানি কালচে হয়ে পচে গেছে এবং পানির উপর ভাসছে কচুরিপানা, প্লাস্টিক ও নানা ধরনের বর্জ্য। আশপাশের বাসিন্দারা জানান, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মশার উপদ্রব এতটাই বেড়ে যায় যে ঘরের বাইরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। দুর্গন্ধে অনেক সময় ঘরের ভেতরেও স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা যায় না। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এদিকে পৌর এলাকায় নির্দিষ্ট ময়লা ফেলার স্থান না থাকায় মুকুন্দগাতী বাজার এলাকায় সোহাগপুর সরকারি শ্যাম কিশোর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও পুরাতন ইসলামী ব্যাংকের সামনের সড়কে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
অনেক সময় নাক-মুখ চেপে রাস্তা পার হতে হয়। পরিবেশ দূষণের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলেও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ওয়াবদার খাল পরিষ্কার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য স্থায়ী ও নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ এবং প্রসেস মিলগুলোর বর্জ্য নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরিন জাহান বলেন, “পৌরসভার নিজস্ব জায়গা না থাকায় পূর্ব থেকেই ওই স্থানে ময়লা ফেলা হয়েছে। ময়লা ফেলার জন্য পৌরসভার নিজস্ব জায়গা নির্ধারণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। খুব দ্রুত স্থান নির্ধারণ করা হবে। তখন এ ধরনের সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।”
আল আমিন হোসেন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
