বুধবার, জুলাই ২৯, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে থলের বিড়াল জলদস্যু বাছেদ শিকদার গল্পে নতুন মোড়

বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে থলের বিড়াল জলদস্যু বাছেদ শিকদার গল্পে নতুন মোড়

বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে থলের বিড়াল জলদস্যু বাছেদ শিকদার গল্পে নতুন মোড়

দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ, বিতর্ক ও গুঞ্জনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা জলদস্যু নুরুল বাছেদ শিকদারকে (সুন্দরবনের জলদস্যু রাজু বাহিনীর সদস্য) ঘিরে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর এবার নতুন নতুন তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের পশ্চিম অঞ্চল মোংলা জোনাল কমান্ডারের কাছে দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগপত্র প্রকাশ্যে আসার পর খুলনার রূপসা উপজেলার আলাইপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগপত্রে স্থানীয় বাসিন্দা ফাতেমা বেগম দাবি করেছেন, জলদস্যু নুরুল বাছেদ শিকদার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজি, জমি দখল, ডাকাতি, অপহরণ, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, সুন্দরবনকেন্দ্রিক বনদস্যু চক্রের সঙ্গে অতীতে সম্পৃক্ত থাকা বাছেদ শিকদার বর্তমানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বিসিজি স্টেশন, জাবুসা’র কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সদস্যের সহযোগিতায় এলাকায় মাদক, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছেন।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, আলাইপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করলেই তাদের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র দিয়ে মিথ্যা মামলা সাজানোর চেষ্টা করা হয়। এতে নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি অভিযোগকারীদের।

অভিযোগে কোস্ট গার্ডের কয়েকজন সদস্যের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তাদের সহযোগিতায় বাছেদ শিকদার এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। এমনকি সরকারি গাড়িতে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া এবং কোস্টগার্ড সদস্যদের নিয়মিত তার বাড়িতে যাতায়াতের অভিযোগও আনা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে গত ৩০ মার্চের একটি ঘটনার বর্ণনাও দেওয়া হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, মাছের পোনা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী শিকদারকে কোস্ট গার্ড সদস্যরা সাজানো মাদক উদ্ধার অভিযানে আটক করে তার ভ্যানে ইয়াবা রেখে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসিয়েছেন। এ ঘটনায় মোহাম্মদ আলীর নিকট রক্ষিত নগদ টাকা ও মাছের পোনাও আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে।

এদিকে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, জলদস্যু নুরুল বাছেদ শিকদারের বিরুদ্ধে খুলনা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। অভিযোগে কয়েকটি জিআর ও সিআর মামলার নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে নানা ভয়ভীতি ও প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাননি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ব্যক্তি ও পরিবার প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলতে শুরু করায় বিষয়টি নতুন মোড় নিয়েছে।

এ ঘটনায় ইতোমধ্যে খুলনা প্রেসক্লাবে একাধিক সংবাদ সম্মেলনও করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, র‌্যাব সদর দপ্তর ও কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরেও অভিযোগ পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুল বাছেদ শিকদার। তার দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পশ্চিম জোন, মংলা’র মিডিয়া সেলে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, অভিযোগকারী তাদের কাছে এসেছিলেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চলছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

কল্যান রায় জয়ন্ত