সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জৈষ্ঠ্যের দাবদাহে পুড়ছে যশোর

জৈষ্ঠ্যের দাবদাহে পুড়ছে যশোর

জৈষ্ঠ্যের দাবদাহে পুড়ছে যশোর

জৈষ্ঠ্যের দাবদাহে পুড়ছে যশোর। টানা কয়েকদিনের প্রচণ্ড গরমে জেলার জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সকাল গড়ানোর আগেই সূর্যের তাপ অসহনীয় হয়ে উঠছে। দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। তীব্র তাপদাহে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, রিকশাচালক, দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিক ও নিম্নআয়ের কর্মজীবীরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, যশোর অঞ্চলে তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। সোমবার যশোরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হলেও অনুভূত তাপমাত্রা ছিল ৪৩ ডিগ্রিরও বেশি। ফলে দিনের পাশাপাশি রাতেও মিলছে না স্বস্তি।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার ও জনসমাগমস্থলগুলোতে মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। প্রয়োজন ছাড়া অনেকে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। তবে জীবিকার তাগিদে যারা বাইরে কাজ করছেন, তাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে রিকশাচালক, ভ্যানচালক, পরিবহন শ্রমিক ও নির্মাণকর্মীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন।


রিকশাচালক জামশেদ আলী বলেন, এ রোদে রাস্তায় থাকা খুবই কষ্টকর। একটু পরপর মাথা ঘুরে আসে। শরীর দুর্বল হয়ে যায়। কিন্তু কাজ না করলে সংসার চলবে না।

পালবাড়ি মোড়ের আরেক রিক্সাচালক সাগর জানান, প্রচন্ড গরমে রাস্তায় যাত্রী তেমন নেই। দুপুরের সময়ে প্রায়ই খালি ঘুরতে হচ্ছে। তারপরও সংসারের সবার মুখের দিকে তাকিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছি।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, তীব্র রোদ থেকে বাঁচতে অনেকে ছাতা, গামছা কিংবা কাপড় দিয়ে মাথা ঢেকে চলাচল করছেন। তীব্র গরমে একমুহুর্তে শান্তি পেতে সাধারণ মানুষ ভীড় করছেন আখের রস বা লেবুর শরবতের দোকানে। দুপুরের সময় দোকানপাটেও ক্রেতা কমে গেছে। খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমিকদের ঘন ঘন বিরতি নিতে দেখা গেছে। তবে তীব্র দাবদাহে বোরো চাষিরা অতিষ্ঠ হলেও তারা আরও কয়েকদিন এমন আবহাওয়া প্রত্যাশা করছেন।

প্রতিদিন তীব্র তাপদাহ থাকার পরেও ঈদ আসন্ন হওয়ায় ইচ্ছা না থাকলেও অনেকেই কাজের সন্ধানে বাইরে বের হচ্ছেন। অনেকে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়েও প্রিয়জনের জন্য করছেন ঈদের কেনাকাটা। আবার রাতে তাপমাত্রা কিছুটা কমায় অনেকেই রাতেই সেরে নিচ্ছেন ঈদের কেনাকাটা।

অতিরিক্ত গরমের কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের রোদে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বেশি করে বিশুদ্ধ পানি, শরবত ও তরল খাবার গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, এ সময় হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া ও নানা ধরনের গরমজনিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করেন, তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। অতিরিক্ত চাপের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দিনের গরমের পাশাপাশি রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই ঘুমাতে পারছেন না।

যশোর শহরের বাসিন্দারা বলছেন, এমন গরমে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। বাজার, অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

সব মিলিয়ে জৈষ্ঠ্যের দাবদাহে হাঁসফাঁস করছে পুরো যশোর। তবে, সন্ধ্যার একপশলা বৃষ্টিতেও স্বস্তি মেলেনি নগরবাসীর। তীব্র গরম থেকে স্বস্তি পেতে বৃষ্টির অপেক্ষায় রয়েছেন জেলার মানুষ।  

কল্যান রায় জয়ন্ত