ঈদুল আজহার আর মাত্র ছয়দিন বাকি। দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদকে সামনে রেখে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। দেশি গরুর পর্যাপ্ত সরবরাহ, ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণা ও পাইকারদের উপস্থিতিতে হাটগুলো এখন সরগরম হয়ে উঠেছে।
উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন ট্রাক, মিনিট্রাক, নছিমনসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে হাজার হাজার গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও গাড়ল আসছে হাটে। বিশেষ করে মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। তবে সাধারণ ক্রেতার তুলনায় পাইকার ও কসাইদের দৌড়ঝাঁপই বেশি চোখে পড়ছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন হাটে গরু-মহিষ নিয়ে আসতে দেখা যায় বিক্রেতাদের। দুপুরের পর হাটগুলো কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে পশু বেচাকেনা।
উপজেলার মাওনা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়ার মধ্যেও বেচাকেনা সচল রাখতে হাটজুড়ে ত্রিপল টানিয়েছে বাজার কমিটি। গরু ও মহিষে ভরপুর হাটে যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। হাটে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় সড়কের উভয় পাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসেছে পশুর বাজার।
মাওনা ইউনিয়নের বারতোপা এলাকা থেকে গরু কিনতে আসা আবু নাসির মোল্লা বলেন, “দুইজন মিলে কোরবানির গরু কিনতে হাটে এসেছি। বড় গরুর দাম কিছুটা কম হলেও ছোট ও মাঝারি গরুর দাম অনেক বেশি হাঁকা হচ্ছে। তারপরও গরু কিনেই বাড়ি ফিরবো ইনশাআল্লাহ।”
শাহাদাত নামে এক যুবক বলেন, “সকাল থেকে হাটে ঘুরছি। এখনও পছন্দমতো গরু পাইনি। ভালো গরু পেলে দাম বড় বিষয় না।”
তেলিহাটি থেকে আসা খামারি আতাহার শেখ বলেন, “আজকের হাটে পাঁচটি গরু এনেছি। দুপুর পর্যন্ত একটি বিক্রি করেছি। বাকিগুলোরও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রি না হলে আগামীকাল লহাই হাটে নিয়ে যাব।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বর্তমানে গোখাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে। আগে যে ভুসি ১৪-১৫শ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেটাই ২১-২২শ টাকা। গরুর ওষুধের দামও অনেক বেশি। ৪০-৪৫ হাজার টাকা মণ দরে গরু বিক্রি করতে না পারলে খরচই উঠবে না।”
ঢাকা থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমি প্রতি বছর মাওনা থেকে গরু কিনে ঢাকার গাবতলী, আফতাবনগর ও তিনশ ফিটের হাটে বিক্রি করি। এবারও অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি গরু কেনার পরিকল্পনা আছে। বড় গরুরও চাহিদা রয়েছে। শিল্পপতিদের কিছু অর্ডারও আছে।”
দামের বিষয়ে তিনি বলেন, “দাম মোটামুটি স্বাভাবিক আছে। অতিরিক্তও না, আবার খুব কমও না।”
মাওনা বাজার হাটের ইজারাদার ও হাট কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, “বর্তমানে হাটের পরিসর বাড়ানো হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা যেন কোনো হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে। অসুস্থ পশুর চিকিৎসায় মেডিকেল টিম ও জাল টাকা শনাক্তে বিশেষ টিম কাজ করছে। সরকারি নির্ধারিত হারেই খাজনা আদায় করা হচ্ছে।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, “উপজেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর দেশের বিভিন্ন জেলায় পশু সরবরাহ করা যাবে। এ বছর খামারিরা ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছি।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছর শ্রীপুর উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১৭ হাজার ৫২৬টি। বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ২১ হাজার ৫০৬টি পশু। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, “পশুর হাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি হাটে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জাল টাকা শনাক্তে বিশেষ টিমও কাজ করছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঞা বলেন, “শ্রীপুরবাসী যেন নির্বিঘ্নে কোরবানির ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায় বন্ধ, মহাসড়কে পুলিশি টহল বৃদ্ধি ও জাল নোট শনাক্তে মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।”
শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি:
