শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মাইকেল জ্যাকসনকে পছন্দ করেন না পরিচালক ভার্মা

মাইকেল জ্যাকসনকে পছন্দ করেন না পরিচালক ভার্মা

মাইকেল জ্যাকসনকে পছন্দ করেন না পরিচালক ভার্মা

নিউজ ডেস্ক:

 

ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বিতর্কিত পরিচালক রাম গোপাল ভার্মা। ১৯৮৯ সালে তেলেগু ভাষার ‘শিবা’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তারপর ‘সত্য’, ‘রঙ্গীলা’-এর মতো সিনেমা উপহার দিয়েছেন। এবার এই পরিচালক বললেন—“আমি মাইকেল জ্যাকসনকে ঘৃণা করি।” 

মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে (টুইটার) মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে দীর্ঘ একটি পোস্ট দিয়েছেন রাম গোপাল ভার্মা। এতে তিনি বলেন, “আমি মাইকেলকে ঘৃণা করি। ‘মাইকেল’ সিনেমা দেখার পর আমার স্মৃতি ফিরে গেল—২০০৯ সালের ২৫ জুনের সেই ভয়াবহ দিনটিতে, যেদিন অনেক রাতে ঘুমিয়েছিলাম, আর আমার ঘরের অন্ধকারে টেলিভিশনটা ভূতের মতো গুঞ্জন করছিল। সকালে ঘুম ঘুম চোখে যখন আমার চোখ পর্দার দিকে গেল, আমি কালো পটভূমিতে সেই ভয়ংকর সাদা রঙের অক্ষরগুলো দেখতে পেলাম—‘মাইকেল জ্যাকসন মারা গিয়েছেন।’ বেশ কয়েক সেকেন্ড ধরে আমি ভাবলাম, এটা নিশ্চয়ই দুঃস্বপ্ন। আমি কেন এমন ভয়ংকর কিছু স্বপ্নে দেখব? কিন্তু টিভির ব্যানারটা রয়েই গেল এবং নিউজের টিকারটা হামাগুড়ি দিয়ে চলতে থাকল। আমি রিমোটের দিকে হাত বাড়িয়ে চ্যানেল পাল্টাতে লাগলাম এবং দেখলাম সব সঞ্চালক একইরকম গম্ভীরভাবে কথা বলছেন, আর আমি অবশেষে বুঝতে পারলাম যে অসম্ভব ঘটনাটি ঘটে গিয়েছে।” 

কলেজ জীবনের স্মৃতিচারণ করে রাম গোপাল ভার্মা বলেন, “বিজয়ওয়াড়ায় আমার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দিনগুলোতে, ১৯৮৪ সালের ২ জানুয়ারি, এক বন্ধু আমাকে নোংরা একটি ভিডিও পার্লারে টেনে নিয়ে যায়, জোর দিয়ে বলে—‘আমাকে কিছু একটা দেখতেই হবে।’ আলো নিভিয়ে দেওয়া হলো, তারপর ‘থ্রিলার’ যেন পেটে এক ঘুষির মতো এসে আছড়ে পড়ল। এটা শুধু একটা গান বা নাচ ছিল না। এটা ছিল এক আগ্রাসন। সারাজীবনের সাধারণত্বে অভ্যস্ত আমার চোখ দুটো যেন হিংস্রভাবে খুলে গেল। প্রযোজনা, কোরিওগ্রাফি, সেই অটুট পরমানন্দ—সবকিছু মিলেমিশে এক স্বর্গীয় সত্তা হয়ে গিয়েছিল। এটা ছিল এমন এক পর্যায়ের দর্শনী, যা আমি কখনো কল্পনাও করতে পারিনি, আর সেই ঝড়ের কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। মাইকেল জ্যাকসন। তিনি কোনো মানুষের মতো নড়াচড়া করছিলেন না। তিনি ভেসে বেড়াচ্ছিলেন, তিনি বিস্ফোরিত হচ্ছিলেন, তিনি ভাসছিলেন, তিনি পর্দাকে এমনভাবে শাসন করছিলেন যেন, কোনো অতিপ্রাকৃত সত্তা মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য আধিপত্য বিস্তার করতে একটি মানবদেহে প্রবেশ করেছেন।”  

মাইকেল জ্যাকসনকে ঐশ্বরিক কিছু বিবেচনা করে রাম গোপাল ভার্মা বলেন, “আমি হতভম্ব হয়ে সেই পার্লার থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম, আমার হৃদস্পন্দন দ্রুত হচ্ছিল, আমার মাথা ঘুরছিল। এটা সত্যি হতে পারে না। তিনি নিশ্চয়ই ঈশ্বর। অথবা অন্ততপক্ষে পৃথিবীতে আমাদের মতো মরণশীলদের আশীর্বাদ করার জন্য দেবতাদের হাতে গড়া কোনো কল্পনা। তার পরবর্তী প্রতিটি মিউজিক ভিডিও সেই মানকে আরো আরো উঁচুতে নিয়ে গিয়েছে। যেমন—বিট ইট, বিলি জিন, স্মুথ ক্রিমিনাল, ব্ল্যাক অর হোয়াইট, রিমেম্বার দ্য টাইম, ব্যাড ইত্যাদি।”