সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সোহাগপুর গরু-ছাগলের হাটে সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (২৭ মে ২০২৬) দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে ২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত হাটে এ অভিযান পরিচালনা করেন বেলকুচি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান।
অভিযানকালে দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত রেট অনুযায়ী হাসিল আদায় করা হচ্ছে না এবং অনেক রশিদে আদায়কৃত টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। হাটে আসা গরু ও ছাগলের ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছাগলের ক্ষেত্রে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত এবং গরুর ক্ষেত্রে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত হাসিল আদায় করা হচ্ছিল।
সরকারি নির্ধারিত হার অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যের ছাগল ও ভেড়ার জন্য ২৫০ টাকা এবং ১০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের পশুর জন্য ৩০০ টাকা হাসিল নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এছাড়া গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ৫০০ টাকা এবং ১ লাখ টাকার বেশি মূল্যের পশুর জন্য ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে এর চেয়ে অনেক বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
মোবাইল কোর্ট চলাকালে সরেজমিনে কয়েকটি রশিদ জব্দ করা হয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর এবং পরিচালনাকারীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সোহাগপুর হাটের পরিচালনাকারী হাজী মো. আমিরুল ইসলামকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর আওতায় ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে এবং পরবর্তী কার্যদিবসে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
এ বিষয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান বলেন, “সরকার নির্ধারিত রেটের বাইরে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত রেট ও বিধি মেনে হাট পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
অভিযানের খবরে হাটে আসা খামারি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তারা প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত তদারকির দাবি জানান।
আল-আমিন হোসেন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: