মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে চা-পানের দোকানের আড়ালে মাদক বিক্রির অভিযোগে এক দোকানদারকে আটক করে কারাদণ্ড দিয়েছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ২টার দিকে কলেজসংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে অস্থায়ী টং দোকানের মালিক সদর উপজেলার ভিটাসাইর এলাকার মো. ঝন্টু উদ্দিন মোল্লাকে গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মাগুরা জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) আমিনুল ইসলাম। অভিযান শেষে জব্দ করা গাঁজা জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কলেজের প্রধান ফটকের সামনে গড়ে ওঠা কয়েকটি অস্থায়ী চায়ের দোকানে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদক বিক্রি হয়ে আসছে। সহজলভ্য হওয়ায় কিছু শিক্ষার্থী মাদকের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে, যা তাদের শিক্ষাজীবন, মানসিক বিকাশ ও সামাজিক আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ বিষয়ে সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ আলফাজ উদ্দিন বলেন, কলেজের সামনের ভ্রাম্যমাণ ও অস্থায়ী দোকানগুলোকে কেন্দ্র করে নিয়মিত মাদক বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ঈদের আগেও একাধিকবার মাদকসহ ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় এসব অবৈধ দোকান উচ্ছেদ এবং প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল কলেজসংলগ্ন এলাকায় মাদক বিক্রি বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
মো: সাজ্জাদ হোসেন, মাগুরা প্রতিনিধি:
