১৯৭২ সালের ২৮ জুলাই ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবা ইন্দর কুমার ঝুলকা ছিলেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর একজন উইং কমান্ডার। বাবার কর্মসূত্রে পরিবারের বিভিন্ন শহরে বসবাসের সুযোগ হলেও, আয়েশার বেড়ে ওঠা মূলত দিল্লিতেই। ছোটবেলা থেকেই অভিনয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল।
১৯৯০-এর দশকের শুরুতে বলিউডে অভিষেকের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। মিষ্টি হাসি, প্রাণবন্ত অভিনয় এবং পর্দায় স্বাভাবিক উপস্থিতির জন্য তিনি দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নেন। হিন্দির পাশাপাশি তিনি ওড়িয়া, কন্নড়, তেলুগু এবং বাংলা ভাষার চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন।
প্রায় তিন দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আয়েশা ঝুলকা ৬০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কুরবান (১৯৯১)
সালমান খানের বিপরীতে অভিনীত এই ছবির মাধ্যমে তিনি বলিউডে প্রধান নায়িকা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
জো জিতা ওহি সিকান্দার (১৯৯২)
আমির খানের বিপরীতে অভিনীত এই কালজয়ী স্পোর্টস-ড্রামা ছবিটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক। ছবির কিংবদন্তি গান "পেহলা নাশা" আজও বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় রোমান্টিক গানের তালিকায় রয়েছে এবং এই ছবির মাধ্যমে তিনি রাতারাতি তারকাখ্যাতি অর্জন করেন।
খিলাড়ি (১৯৯২)
অক্ষয় কুমারের বিপরীতে অভিনীত এই রহস্য-রোমাঞ্চধর্মী চলচ্চিত্রটি সুপারহিট হয় এবং বলিউডের জনপ্রিয় 'খিলাড়ি' সিরিজের সূচনা করে।
দালাল (১৯৯৩)
মিঠুন চক্রবর্তীর বিপরীতে অভিনীত এই ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে বড় সাফল্য পায়।
এছাড়াও রং (১৯৯৩), সংগ্রাম (১৯৯৩), ওয়াক্ত হামারা হ্যায় (১৯৯৩), জয় কিষাণ (১৯৯৪), মাসুম, ব্রহ্মা, বালমাসহ আরও বহু জনপ্রিয় ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন।
২০০৩ সালে তিনি ব্যবসায়ী সমীর বাশী-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহের পর এই দম্পতি পারস্পরিক সম্মতিতে সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে অনেকেই সচেতন জীবনদর্শনের উদাহরণ হিসেবে দেখেন।
২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে ব্যবসা, সামাজিক উদ্যোগ এবং ব্যক্তিগত জীবনকে বেশি সময় দেন। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২২ সালে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর বহুল আলোচিত ওয়েব সিরিজ 'Hush Hush'-এর মাধ্যমে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘটে। এরপর ২০২৩ সালে 'Happy Family: Conditions Apply' সিরিজে অভিনয় করে তিনি নতুন প্রজন্মের দর্শকদেরও প্রশংসা অর্জন করেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং পথপ্রাণীদের সুরক্ষা ও কল্যাণে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও তিনি নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলেছেন।
নব্বইয়ের দশকের বলিউডপ্রেমীদের কাছে আয়েশা ঝুলকা আজও এক নস্টালজিক নাম। তাঁর হাসি, অভিনয় এবং অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র এখনও দর্শকদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে। জন্মদিনে আয়েশা ঝুলকার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, সুখ ও জীবনের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি।