রবিবার, নভেম্বর ১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ জনপ্রিয় বাংলা সিনেমা ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র নির্মাতা বাসু চ্যাটার্জির মৃত্যুবার্ষিকী

আজ জনপ্রিয় বাংলা সিনেমা ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র নির্মাতা বাসু চ্যাটার্জির মৃত্যুবার্ষিকী

আজ জনপ্রিয় বাংলা সিনেমা ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র নির্মাতা  বাসু চ্যাটার্জির মৃত্যুবার্ষিকী

নিউজ ডেস্ক


১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল চলচ্চিত্র অঙ্গনে। একই সাথে এ ছবি দিয়েই চলচ্চিত্রে সফল যাত্রা শুরু হয় অভিনেতা ফেরদৌসের। ভারতের অন্যতম রোমান্টিক চলচ্চিত্রকার পরিচালক বাসু চ্যাটার্জির আজ পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে এন্টার টিভি পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই।

বাসু চ্যাটার্জী ১০ই জানুয়ারি ১৯৩০ সালে ভারতের আজমির রাজস্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা রেলওয়েতে চাকরি করতেন, তাই বদলি হতেন সপরিবার। তখন থেকেই ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের মানুষের জীবন দেখার সুযোগ হয় তার। বাংলার বাইরে থাকলেও ভোলেননি বাঙালি শিকড়কে। বিশেষত সামাজিক ও রোমান্টিক চলচ্চিত্র নির্মাণে তার দক্ষতা প্রবাদপ্রতিম।


বাংলাদেশের নায়ক ফেরদৌসকে নিয়ে তার নির্মিত 'হঠাৎ বৃষ্টি' ছবিটি যারা দেখেছেন, তাদের মনে আছে রোমান্টিক কাহিনির চিত্রায়ণে তিনি কতটুকু পারঙ্গম।
চলচ্চিত্রে বাসু চ্যাটার্জির বিকাশ হৃষীকেশ মুখার্জি হাত ধরে। পরিচালক বসু ভট্টাচার্যর পৃষ্ঠপোষকতাও তিনি পেয়েছিলেন। তিনি হৃষীকেশ মুখার্জি এবং বসু ভট্টাচার্যের সহকারী হিসাবে চিত্রনির্মাণ করেন।


রূপালি পর্দায় পরিচালক বাসু চ্যাটার্জি স্বপ্নের ছবি আঁকতেন। প্রেম ও রোমান্টিক আবহে সাধারণ, মধ্যবিত্ত মানুষের আটপৌরে জীবনসংগ্রামের কঠিনতম প্রান্তরে আনতেন স্বপ্নের ছোঁয়া। স্বপ্ন নিয়েই তিনি বেঁচে ছিলেন। 
পরিচালক বাসু চ্যাটার্জির একটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র 'হঠাৎ বৃষ্টি'তে নচিকেতার কণ্ঠে গাওয়া 'একদিন স্বপ্নের দিন, বেদনার বর্ণবিহীন,....
সারা জীবন মধ্যবিত্তের আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রেম-বিরহ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন তিনি। বোম্বের বাঘা-বাঘা পরিচালকের ক্রাইম, অ্যাকশন, ভায়োলেন্সভিত্তিক ম্যাগাফিল্মের সঙ্গে নিটোল নির্মাণশৈলী ও কাহিনির জোরে লড়াই করেছেন তিনি। একজন শিল্পিত নির্মাতা হিসেবে তার কদর ছিল সর্বজনবিদিত।


বাসু চ্যাটার্জি গুরুত্ব দিতেন কাহিনি ও নির্মার্ণকলায়। গভীর অনুভূতিসূচক কাহিনিকে তিনি সিনেমাটোগ্রাফি, সংলাপ, চিত্রনাট্য ও নেপথ্য সঙ্গীতের আবহে জমিয়ে দিতেন। তার অধিকাংশ ছবির সঙ্গীত পরিচালনায় সঙ্গত কারণেই ছিলেন বিখ্যাত সলিল চৌধুরী।
খুবই স্নিগ্ধ আর হৈচৈ-হট্টগোল ছাড়া ছবি করতেন বাসু চৌধুরী। অল্প কয়জন অভিনেতাকে নিয়েই তার ছবি উতরে গেছে। প্রতিটি চরিত্রকে গভীরভাবে ফোকাস করার মাধ্যমে তিনি একই সঙ্গে কাহিনি ও অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জীবন্ত করে তুলতেন।


চলচ্চিত্রের গ্রামার তিনি এতোটাই ভালো বুঝতেন যে, বিশাল স্টেজ, বড় ক্যানভাস, সুপার হিরো-হিরোইন, অনেক কাস্টিং ও রং-বেরঙের কস্টিউমস ছাড়াও তার ছবি নান্দনিক সুষমায় উজ্জ্বল ও জনপ্রিয়। শিক্ষিত, পরিশীলিত, রুচিশীল দর্শকদের পছন্দের তালিকায় তিনি সব সময়ই ছিলেন।


বাসু চ্যাটার্জির প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র সারা আকাশ (১৯৬৯)। এই ছবিটির জন্য ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার লাভ করেন তিনি।
পরিচালক বাসু চ্যাটার্জি চিত্রনাট্য, সংলাপ রচয়িতা , কাহিনিকার, পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
তিনি কিছু বাংলা সিনেমা ও টিভি সিরিয়াল পরিচালনা করেন। তার বিখ্যাত কিছু ছবির মধ্যে রয়েছে সারা আকাশ, রজনীগন্ধা, ছোটি সে বাত, স্বামী, গোধূলি, ত্রিশঙ্কু ইত্যাদি।
বাঙালি বাবু হলেও বাসু চ্যাটার্জি হিন্দি চলচ্চিত্রে সাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। কারণ তিনি জন্ম নেন হিন্দিভাষী অঞ্চলে, ১৯৩০ সালের ১০ জানুয়ারি ভারতের রাজস্থান প্রদেশের ঐতিহাসিক আজমির শহরে।


তার বহু ছবিতেই উত্তর ভারত তথা জন্মস্থান রাজস্থানের প্রকৃতি, পরিবেশ ও নিসর্গের ব্যবহার রয়েছে।
বিশেষত 'হঠাৎ বৃষ্টি' ছবিতে প্রত্নঐতিহ্য ও মরুময় জয়সলমীর চমৎকারভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম রাজস্থানের থর মরুভূমির মাঝখানে পাকিস্তানের সীমান্ত ঘেঁষা জয়সলমীরের বিরাণ ও ঊষর প্রান্তরে বাঙালি যুবক ফেরদৌস এর প্রেম ও বিরহ ছবিটিকে দর্শকপ্রিয় করেছে।
অচেনা ও নবাগত ফেরদৌসকেও এই ছবি বিখ্যাত করেছে। এমন অনেকেই লাইম লাইটের আলোয় এনেছেন মেধাবী পরিচালক বাসু চ্যাটার্জি।
বোম্বের অন্য পরিচালকের মতো বাসু চ্যাটার্জি স্বপ্ন ও ফ্যান্টাসির তোপ দেগে দেননি দর্শকদের মগজে। বরং দর্শকের সুপ্ত মনস্তাত্ত্বিক স্তরের অবচেতনে যে অসফল বা চাপা পড়া স্বপ্ন আছে, তাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। সাধারণ মানুষ ও তাদের দৈনন্দিন স্বপ্ন-সংগ্রামই ছিল তার উপজীব্য।


বলিউড চলচ্চিত্র মাধ্যমকে মানুষের হৃদয়স্পর্শী করার কৃতিত্ব বসু চাটার্জীর। সাধারণ টেকনিক ও সরল উপস্থাপনায় তিনি সেটা করেছেন। কঠিন কঠিন সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক ইস্যুকে সহজে ধারণ করেছেন। তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত চলচ্চিত্র নির্মাতা, যিনি সেলুলয়েডে স্বপ্ন বিনির্মাণ করতে পারতেন।


৯০ বছরের সুদীর্ঘ জীবন চলচ্চিত্রের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকলেও বাসু চ্যাটার্জী মুম্বাই থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ট্যাবলয়েড Blitz-এ অঙ্কনশিল্পী এবং কার্টুনিস্ট হিসাবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। 
তবে জীবনের নানা বাঁক পেরিয়ে সিনেমার স্বপ্নময় রূপালি জগতকেই তিনি আপন করে নেন। মৃত্যুর উড়ালপথে তিনি সিনেমার স্বপ্নময় জগত থেকে চলে গেলেও চিরকালের স্বপ্নের দিনে আজও রয়েছেন চলচ্চিত্র প্রেমীদের মন ও মননে।
এ গুণী চলচ্চিত্রকার ৪ মে ২০২০ সালে ৯০ বছর বয়সে ভারতের বোম্বে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। বার্ধক্যজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। ডায়াবেটিস এবং উচ্চ-রক্তচাপ জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।