সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও অটোভ্যানের ভয়াবহ সংঘর্ষে একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজন নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৫ জুন ২০২৬) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসটি ভ্যানের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন বেলকুচি উপজেলার আজুগরা হেজুলতলা গ্রামের ফজিলা খাতুন (৩৫), তার স্বামী মোতালেব সরকার (৪০), পিতা মৃত বাছের সরকার এবং জামতলা আজুগরা গ্রামের অটোভ্যানচালক নুরু (৪৫), পিতা মৃত সোনা উল্লাহ।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নিহত মোতালেব সরকারের মেয়ে তামান্না খাতুন (১৬)। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শামসুল হক জানান, ঢাকা থেকে আসা বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। একই সময় আজুগরা থেকে আসা অটোভ্যানটির এক্সেল ভেঙে যাওয়ায় সেটি সড়কে বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে যায়। বাসচালক নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে অটোভ্যানের ওপর দিয়ে গাড়ি তুলে দিলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে স্বামী-স্ত্রী ও ভ্যানচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বেলকুচি থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
এ বিষয়ে বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমাম জাফর বলেন, “খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।”
দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে।
স্থানীয়রা জানান, এ সড়কে প্রায়ই দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করে, যার ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি সবসময় বিদ্যমান থাকে। তারা সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক তদারকি বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম চলছে। গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আল-আমিন হোসেন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
