নোয়াখালীর বাণিজ্যিক কেন্দ্র চৌমুহনী। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও যানবাহনের চাপ থাকে এ সড়কে। দূরপাল্লার বাস–ট্রাক থেকে লোকাল যানবাহন—সবকিছুই চলাচল করে এই ব্যস্ত সড়ক দিয়ে। কিন্তু ফুটপাত দখল, হকারদের দোকানপাট,
অটোরিকশা–সিএনজির এলোমেলো দাঁড়িয়ে থাকা এবং বিশৃঙ্খল ট্রাফিক পরিস্থিতির কারণে সড়কটি এখন স্থায়ী যানজটে পরিণত হয়েছে।
ফুটপাত দখল—যানজটের মূল কারণ।প্রতিদিন দেখা যায়, রাস্তার একপাশ জুড়ে বসে পড়ছে ফুটপাতের হকাররা। প্রশাসন বারবার উচ্ছেদ অভিযান চালালেও তারা কিছুদিন পরই আবার আগের জায়গায় ফিরে আসে। এতে পথচারীরা ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে রাস্তায় নামতে বাধ্য হন, ফলে যান চলাচলেও সৃষ্টি হয় তীব্র জট।
অটোরিকশা–সিএনজির বিশৃঙ্খলা।
ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও সিএনজিগুলো ট্রাফিক নিয়ম অমান্য করে যেখানে-সেখানে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকে। অনেক সময় উল্টো পথে প্রবেশ করে আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকায় তাদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল চৌমুহনীর যানজটকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
বাসের অনিয়ন্ত্রিত যাত্রী ওঠানামা।নির্দিষ্ট বাসস্টপ না থাকায় সুগন্ধা বাসসহ লোকাল বাসগুলো বাজারের মাঝেই যাত্রী ওঠানামা করায় সড়কে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। এতে পিছন দিক থেকে একের পর এক যানবাহন আটকে পুরো সড়কে যানজট ছড়িয়ে পড়ে।
চালকবিহীন ট্রাক সড়কে আরেক বিপত্তি কখনো দেখা যায়, কোনো ট্রাক চালকবিহীন অবস্থায় রাস্তার মাঝেই দাঁড়িয়ে আছে। এতে একদিকে যান আটকে থাকে, আর অন্যদিকে পথচারীদেরও ভোগান্তি হয়। পরে পুলিশ এসে ট্রাক সরালে তবেই স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশ্বাস এই বিষয়ে নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কায়েসুর রহমান বলেন,আমি সদ্য যোগদান করেছি। ফুটপাত দখলমুক্তকরণ এবং যানজট নিরসনে জনগণকে ভোগান্তি থেকে মুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করবো।
যাত্রী ও পথচারীদের দাবি প্রতিদিনের ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ মানুষদের দাবি চৌমুহনী সড়ককে ফুটপাত দখলমুক্ত করা,
অবৈধ অটোরিকশা-সিএনজি স্ট্যান্ড সরিয়ে দেওয়া,বাসের নির্দিষ্ট স্টপেজ নির্ধারণ,এবং স্থিতিশীল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।যানজটের এই দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।