নিউজ ডেস্ক:
একজন গুণী অভিনেতা, মননশীল শিল্পী এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র
আজ ৭ জুন, জনপ্রিয় ও সম্মানিত চলচ্চিত্র অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ-এর জন্মদিন। এই দিনে ১৯৭৪ সালে কুমিল্লার তিতাসে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পুরো নাম ফেরদৌস আহমেদ। শৈশব ও কৈশোরের শিক্ষাজীবন কাটে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে, এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা করেন।
চলচ্চিত্রে অভিনয়ের আগে র্যাম্প মডেল হিসেবে কাজ শুরু করেন ফেরদৌস। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেলের হাত ধরে তার ফ্যাশনজগতে আগমন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বহু আন্তর্জাতিক ফ্যাশন শোতে র্যাম্প মডেল হিসেবে অংশ নেন তিনি।
চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে প্রয়াত নৃত্য পরিচালক আমির হোসেন বাবুর হাত ধরে। যদিও তার পরিচালিত “নাচ ময়ূরী নাচ” চলচ্চিত্রটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি, তবে ফেরদৌসের ভাগ্য বদলে যায় ১৯৯৮ সালে, গাজী মাজহারুল আনোয়ার পরিচালিত "পৃথিবী আমারে চায় না" ছবিতে প্রথম একক নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে।
তবে তাঁর প্রকৃত জনপ্রিয়তা আসে একই বছরের বাসু চ্যাটার্জি পরিচালিত যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র "হঠাৎ বৃষ্টি"-র মাধ্যমে। এই চলচ্চিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-এ শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মানে ভূষিত হন।
বাংলাদেশ ও ভারতের বহু দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন দক্ষ ও পরিপক্ব অভিনেতা হিসেবে। উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে:
* চন্দ্রকথা (হুমায়ূন আহমেদ)
* ব্যাচেলর (মোস্তফা সরয়ার ফারুকী)
* কাল সকালে (আমজাদ হোসেন)
* রূপান্তর (আবু সাইয়ীদ)
* গঙ্গাযাত্রা (সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড)
* গোলাপী এখন বিলাতে, জাগো, টক ঝাল মিষ্টি, চুপি চুপি প্রভৃতি।
তিনি চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, তিনবার মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার এবং একবার বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেছেন। বলিউডের একটি হিন্দি ছবিতেও (মিট্টি) তিনি অভিনয় করেছেন।
২০০৩ সালের ৯ ডিসেম্বর পাইলট তানিয়া আহমেদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ফেরদৌস। তাঁদের দুই সন্তান—পুত্র নুজহাত ফেরদৌস ও কন্যা নুজরান ফেরদৌস। পরিবার, ক্যারিয়ার এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার ভারসাম্য রেখে একজন অনন্য ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি।
আজ তাঁর জন্মদিনে আমরা এন্টার টিভি পরিবার শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি তাঁর অবদান এবং কৃতজ্ঞচিত্তে জানাই শুভেচ্ছা।
দীর্ঘায়ু হোন, সুস্থ থাকুন, আরও সমৃদ্ধ হোক আপনার সৃজনশীল যাত্রা। শুভ জন্মদিন ফেরদৌস আহমেদ।