নিউজ ডেস্ক :
পাকিস্তানি উর্দু চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের এক অবিস্মরণীয় নাম সাবিহা খানুম। তিনি ছিলেন একাধারে অভিনেত্রী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং দেশটির চলচ্চিত্রশিল্পে নারী প্রতিনিধিত্বের প্রথম সারির পথিকৃৎ। সাবিহা খানুম 'ফার্স্ট লেডি অব পাকিস্তানি সিনেমা' হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তিনি নিগার পুরস্কার ছয়বার এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা "প্রাইড অফ পারফরম্যান্স" অর্জন করেন।
সাবিহার প্রকৃত নাম ছিল মুখতার বেগম। ১৯৩৫ সালের ১৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশে। তার বাবা ছিলেন দিল্লির থিয়েটারশিল্পী মোহাম্মদ আলী (মাহিয়া) এবং মা ইকবাল বেগম (বালো), যিনি নিজেও একজন মঞ্চ ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ছিলেন। রক্ষণশীল পরিবেশে দাদার বাড়িতে বেড়ে উঠলেও পরে বাবার সঙ্গে লাহোরে এসে অভিনয়জগতে প্রবেশ করেন।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে ‘শশীপুন্নু’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর পথচলা শুরু হয়।
১৯৫০ সালে পরিচালক আনোয়ার কামাল পাশার বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘দো আঁসু’ দিয়ে তিনি খ্যাতির শিখরে পৌঁছান।
এই ছবিই পাকিস্তানের প্রথম সিলভার জুবিলি চলচ্চিত্র। এই ছবিতে তাঁর সহ-অভিনেতা ছিলেন সন্তোষ কুমার, যিনি পরবর্তীতে তাঁর জীবনসঙ্গী হন।
সাবিহা খানুম ও সন্তোষ কুমার জুটি পাকিস্তানি চলচ্চিত্রে রূপকথার মতোই সমাদৃত। তারা একসঙ্গে ৪৭টি সিনেমায় অভিনয় করেন এবং দর্শকদের কাছে এক চিরস্মরণীয় দম্পতিতে পরিণত হন।
দো আঁসু, গুমনাম, দুলা ভাটি, দেবর ভাবি, আশপাশ, সোহিনী, দত্তা, কানিজ, শিকওয়া, মেহফিল, ইশক্ এ লায়লা, ওয়াদা, মহব্বত, আঞ্জুমান প্রভৃতি।
সর্বমোট তিনি ২০২টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন, যার অধিকাংশই উর্দু ভাষায় নির্মিত।
চলচ্চিত্র ছাড়াও তিনি 'দস্ত' ও 'এহসাস'–এর মতো জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় করেন, যা তাঁর অভিনয়ের ব্যাপ্তি আরও বিস্তৃত করে।
পুরস্কার ও সম্মাননা
🔹 ছয়বার নিগার অ্যাওয়ার্ড
🔹 পাকিস্তান সরকারের প্রদত্ত "প্রাইড অফ পারফরম্যান্স" সম্মাননা-
সাবিহা খানুম তাঁর শেষ জীবন কাটান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় তাঁর সন্তানদের সঙ্গে।
২০২০ সালের ১৩ জুন তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন, তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
সাবিহা খানুম ছিলেন এমন এক শিল্পী, যাঁর সত্তা জুড়ে ছিল অভিনয়প্রেম, সৌন্দর্য ও দৃঢ়চেতা নারীত্ব। তাঁর অবদান পাকিস্তানের চলচ্চিত্র ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় থাকবে।