রবিবার, নভেম্বর ১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ অভিনেত্রী নাজমা আনোয়ারের শুভ জন্মদিন

আজ অভিনেত্রী নাজমা আনোয়ারের শুভ জন্মদিন

আজ অভিনেত্রী নাজমা আনোয়ারের শুভ জন্মদিন

গুণী ও মেধাবী অভিনয়শিল্পী হিসেবে নাজমা আনোয়ার ছিলেন এক অনন্য প্রতিভা। তাঁর অভিনয়ের স্বতন্ত্র ধারা ও জীবনের সংগ্রাম শিল্প-সংস্কৃতির ভুবনে রেখে গেছে চিরভাসমান এক পদচিহ্ন। মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—তিন পরিসরেই তিনি নিজস্ব ছাপ রেখে গেছেন।


নাজমা আনোয়ার ১৯৪১ সালের ২৮ জুন মুন্সীগঞ্জ জেলার টুঙ্গিবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন সরকারি হরগঙ্গা কলেজের আরবির অধ্যাপক, আর মাতা শফিকুননেছা বাহরামান্দ বানু। ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত গ্রামের স্কুলে পড়াশোনার পর পরিবারসহ চলে আসেন ঢাকায়।


১৯৬০ সালে 'ঢাকা ড্রামা সার্কেল'-এ যোগ দিয়ে মঞ্চনাটকে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। প্রথম নাটক ছিল ‘দান্তের মৃত্যু’। পরবর্তীতে তিনি আরণ্যক নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত হন (১৯৮১)। ‘গিনিপিগ’, ‘ওরা কদমআলী’, ‘ইবলিশ’, ‘সমতট’, ‘কোরিওলেনাস’ প্রভৃতি নাটকে তাঁর অভিনয় আজও নাট্যপ্রেমীদের মনে দাগ কেটে আছে।


আশির দশকে তিনি টিভি নাটকে প্রবেশ করে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। 'কোথাও কেউ নেই', 'তাঁর রহস্যের হাসি', 'সাতজন যাত্রী', 'সংসার সখী', 'প্রিয় পদরেখা', 'ঘুণ', 'জননী জন্মভূমি', 'করিমন বেওয়া' সহ বহু নাটকে তিনি দর্শকদের মন জয় করেন।
'করিমন বেওয়া' নাটকে মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবির চরিত্রে তাঁর অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন।


চলচ্চিত্রে সংযত অথচ গভীর উপস্থিতি:
নাজমা আনোয়ার সুস্থধারার কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সমালোচক ও দর্শক উভয়ের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে—
▪️ শঙ্খনীল কারাগার (১৯৯২)
▪️ দুখাই (১৯৯৭)
▪️ চট্টগ্রাম: দ্য লাস্ট স্টপওভার (২০০০)
▪️ জয়যাত্রা (২০০৪)
▪️ শঙ্খনাদ (২০০৪)
▪️ হাজার বছর ধরে (২০০৫, মুক্তির পরপরই)
স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ:
নাজমা আনোয়ার এবং তাঁর স্বামী কবি মুস্তফা আনোয়ার মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ওপার বাংলায় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পরিচালিত সেবা কেন্দ্রের একজন নিবেদিতপ্রাণ সেবিকা ছিলেন তিনি।


দীর্ঘ কর্মময় জীবনের ইতি টানেন ২০০৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর, স্বাধীনতা দিবসের দিনে। ৬৩ বছর বয়সে তিনি ঢাকায় পরলোকগমন করেন।
নাজমা আনোয়ার ছিলেন চরিত্রাভিনয়ের এক উজ্জ্বল দীপ্তি, যাঁর শিল্পিত প্রতিভা যুগের পর যুগ মঞ্চ, পর্দা ও দর্শকহৃদয়ে বেঁচে থাকবে।
শ্রদ্ধাঞ্জলি এই গুণী অভিনেত্রীর প্রতি।