নোয়াখালীর প্রবীণ সাংবাদিক, বিশিষ্ট লেখক, সাহিত্যিক, গল্পকার, উপন্যাসিক এবং হাতিয়া কণ্ঠ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক এম দিলদার উদ্দিন আর নেই। বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে অসুস্থ অবস্থায় নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এম দিলদার উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বুধবার গভীর রাতে তাঁকে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথেই তিনি মারা যান।
তিনি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ছৈয়দিয়া এলাকার মরহুম জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে। আজ বৃহস্পতিবার বাদ আসর নোয়াখালীর কালিতারা এলাকায় নিজ বাড়ি সংলগ্ন মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
এম দিলদার উদ্দিন ছিলেন হাতিয়ার সাংবাদিকতা ও সাহিত্য অঙ্গনের অন্যতম পথিকৃৎ। ১৯৮৪ সালে তিনি ‘দ্বীপচিত্র’ নামে একটি মাসিক সংবাদপত্র প্রকাশ করেন, যা হাতিয়া থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র হিসেবে পরিচিত। পরবর্তীতে এই প্রকাশনাই ‘হাতিয়া কণ্ঠ’ নামে নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করে এবং দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপাঞ্চলের মানুষের মুখপাত্র হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন প্রতিভাবান লেখক। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও কবিতাসহ সাহিত্যচর্চার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। তাঁর লেখায় হাতিয়ার ইতিহাস, সংস্কৃতি, সমাজ ও মানুষের জীবনসংগ্রাম বারবার উঠে এসেছে।
এম দিলদার উদ্দিনের মৃত্যুতে হাতিয়া প্রেসক্লাব গভীর শোক প্রকাশ করেছে। এক শোকবার্তায় হাতিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো: ফিরোজ উদ্দিন মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এছাড়া স্থানীয় সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেন, এম দিলদার উদ্দিনের মৃত্যুতে হাতিয়ার সাংবাদিকতা ও সাহিত্যাঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।
