পটুয়াখালীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক জনপদ মহিপুরকে পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। মহিপুর পুলিশি থানাকে প্রশাসনিক উপজেলায় রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও দ্রুত কার্যক্রম নিষ্পত্তির নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে কলাপাড়া উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে নতুন একটি প্রশাসনিক উপজেলা গঠনের পথ প্রশস্ত হলো।
গত ৭ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-১ (প্রশাসন) মো. মহিউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনার কপিটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি দফতরগুলোতেও পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ বি এম মোশাররফ হোসেন গত ৫ জুন প্রধানমন্ত্রী বরাবর মহিপুরকে প্রশাসনিক উপজেলা করার একটি লিখিত আবেদন জানান। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা জারি করে।
সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন তার আবেদনে মহিপুরের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের বেশ কয়েকটি জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন:
মৎস্য বন্দর: এখানে দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য বন্দর (মহিপুর-আলীপুর) অবস্থিত, যা সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির মূল প্রাণকেন্দ্র।
সাবমেরিন ক্যাবল স্টেশন: দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনটি এই মহিপুরেই অবস্থিত।
পর্যটন সুবিধা: বিশ্বখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সাথে মহিপুরের সরাসরি ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে।
জনস্বার্থ: এই বিশাল জনপদ ও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক সেবার চাহিদা পূরণে মহিপুরকে উপজেলা ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে মহিপুর পুলিশি থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই এলাকাটির বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এখানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দফতর, ব্যাংক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই যুগান্তকারী নির্দেশনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও আশার সঞ্চার হয়েছে। মহিপুর পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি পেলে এই অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছানো সহজ হবে এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলো এখন মাঠপর্যায়ের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকরণের কাজ শুরু করে দিয়েছে।
মোঃ সোহাগ আহমেদ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
