সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌরসভার নতুন স্থাপিত একটি পানির পাম্পের পাইপলাইনে দ্বিতীয় দফার পরীক্ষাতেও গ্যাসসদৃশ্য পদার্থের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সম্ভাব্য উৎস অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)-কে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল ৪টায় বেলকুচি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উত্তরাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি ও বেলকুচি ফায়ার সার্ভিসের উপস্থিতিতে পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষায় আগের দিনের মতোই পানির পাইপলাইনে গ্যাসসদৃশ্য পদার্থের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলকুচি থানা সংলগ্ন মাজেম মিয়ার গড়ানে অবস্থিত পৌরসভার নতুন পানির পাম্প থেকে সরবরাহকৃত একটি পাইপলাইনে হঠাৎ আগুন জ্বলতে দেখা যায়। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উত্তরাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে গ্যাসসদৃশ্য পদার্থের অস্তিত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং পরদিন পুনরায় পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন।
উত্তরাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, দ্বিতীয় দফার পরীক্ষাতেও একই ধরনের ফলাফল পাওয়া গেছে। তবে এটি কী ধরনের গ্যাস, কীভাবে পানির লাইনে এসেছে এবং এর প্রকৃত উৎস কোথায়—তা নিশ্চিত হতে আরও বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন।
বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন, "পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষায়ও গ্যাসসদৃশ্য পদার্থের উপস্থিতির বিষয়টি পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। পরবর্তী প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান ও কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাপেক্সকে চিঠি পাঠানো হবে। পাশাপাশি বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে।"
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা-উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল তদন্ত ও পরীক্ষার পরই বিষয়টির প্রকৃত কারণ এবং গ্যাসসদৃশ্য পদার্থের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তাই চূড়ান্ত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন হবে না।
আল-আমিন হোসেন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
