নওগাঁর মান্দা উপজেলায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রকাশ্যে লটারির মাধ্যমে লেবার কন্ট্রাক্টিং সোসাইটি (এলসিএস)-এর দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই এবং জনসম্মুখে লটারির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১৬ জন নারীকে নির্বাচিত করা হয়।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন এলজিইডির অধীনে কিছুসংখ্যক এলসিএস শ্রমিক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ৮ জুলাই। মোট ১৩৭ জন নারী আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৫৪ জনের আবেদন বৈধ বলে বিবেচিত হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সভাকক্ষে প্রকাশ্যে লটারির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১৬ জন নারীকে নির্বাচিত করা হয়।
লটারিতে নির্বাচিত গণেশপুর গ্রামের নাসরিন বলেন, “আমি আবেদন করেছিলাম। লটারিতে আমার নাম উঠেছে। কাউকে কোনো টাকা দিতে হয়নি। কাজ পেয়ে আমি খুব খুশি।”
লটারিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম, কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওফেল আলী মণ্ডল, পরানপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আতাউর রহমানসহ এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আবেদনকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
লটারির স্বচ্ছতা সম্পর্কে নওফেল আলী মণ্ডল বলেন, “আমিও সেখানে উপস্থিত ছিলাম। সবার উপস্থিতিতেই লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।”
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম বলেন, “ইউএনও, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।”
উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের বলেন, “স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে প্রকাশ্যে লটারির মাধ্যমে এলসিএস কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ বোর্ডে লটারির তারিখ ও সময় আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আবেদনকারীদের বয়সসীমা, রাস্তার দূরত্ব এবং অন্যান্য নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে ৫৪ জনের আবেদন বৈধ ঘোষণা করা হয়। পরে প্রকাশ্যে লটারির মাধ্যমে ১৬ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে না পেরে যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়া কয়েকজন আবেদনকারীকে উসকানি দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন গুজব ছড়াচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী বলেন, “আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টি প্রকৌশলী ভালো জানেন। আমি লটারির অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সবার উপস্থিতিতে লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। লটারিতে কোনো ধরনের অস্বচ্ছতা আমার নজরে পড়েনি।
এম এ মতিন, মান্দা(নওগাঁ) প্রতিনিধি:
