রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইসরাইলি বসতি পণ্য আমদানিতে বেলজিয়ামের নিষেধাজ্ঞা

ইসরাইলি বসতি পণ্য আমদানিতে বেলজিয়ামের নিষেধাজ্ঞা

ইসরাইলি বসতি পণ্য আমদানিতে বেলজিয়ামের নিষেধাজ্ঞা

পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বেলজিয়াম ফেডারেল সরকার। এর মাধ্যমে স্পেন, নেদারল্যান্ডস এবং আয়ারল্যান্ডের পর চতুর্থ ইউরোপীয় দেশ হিসেবে ইসরাইলি বসতি পণ্যের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল বেলজিয়াম। 

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই নীতিগতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতবিরোধ ও দীর্ঘ আলোচনার কারণে তা বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়। অবশেষে সরকারের গ্রীষ্মকালীন ছুটির ঠিক আগে, শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে মন্ত্রিসভার এক দীর্ঘ বৈঠকে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। তবে এই আইনের খসড়াটি এখনও প্রকাশ না করায় বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

বেলজিয়ামের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরাইলি আইনপ্রণেতা শারেন হাস্কেল। তিনি বলেন, বেলজিয়াম এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে যেখান থেকে আর ফিরে আসার পথ নেই। কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, বেলজিয়াম কট্টর ইসলাম আমদানি করা অব্যাহত রাখতে পারে, অন্যদিকে ইসরাইল জুডিয়া ও সামারিয়ার (পশ্চিম তীর) পণ্য সেইসব দেশে রপ্তানি করবে যারা উদ্ভাবন, গুণমান ও প্রযুক্তিকে বেছে নেয়। 

একই সুর শোনা গেছে বেলজিয়ামের কট্টরপন্থী সংসদ সদস্য স্যাম ভ্যান রয়ের কণ্ঠেও। তিনি সরকারকে একপেশে আচরণের জন্য অভিযুক্ত করে বলেন, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে নীরব থেকে শুধুমাত্র ইসরাইলকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। 

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে যা সরকার বিবেচনায় নেয়নি। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, বেলজিয়ামে ইহুদিদের তুলনায় মুসলিম জনসংখ্যা ২৫ গুণ বেশি হওয়ায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বেলজিয়াম সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটির ফরাসিভাষী বেলজিয়াম শাখার অ্যাডভোকেসি অফিসার নাথালি জ্যানে বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের অবৈধ দখলদারিত্ব, গাজায় গণহত্যা, পশ্চিম তীরে জাতিগত নিধন এবং বর্ণবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে খুব কম রাষ্ট্রই এখন পর্যন্ত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিয়েছে। 

দেরিতে হলেও বেলজিয়ামের এই সিদ্ধান্ত একটি প্রশংসনীয় অগ্রগতি। তিনি মনে করেন, এই উদ্যোগের ফলে সামগ্রিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্তরেও এমন নিষেধাজ্ঞা জারির চাপ বাড়বে। 

তবে এই নিষেধাজ্ঞার কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়ে সমালোচনা করেছে বিভিন্ন এনজিও ও মানবাধিকার সংস্থা। তাদের অভিযোগ, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র পশ্চিম তীরের বসতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করা হয়েছে, কিন্তু অবৈধভাবে দখলকৃত গোলান মালভূমিকে এর আওতাভুক্ত করা হয়নি। 

এনজিও ‘ব্রোডারলিজেক ডেলেন’-এর পলিসি অফিসার রিকর্ট হোরেম্যানস জানান, গোলান মালভূমিকে বাদ দেওয়ার কোনো যৌক্তিক বা আইনি কারণ নেই, মূলত ইসরাইলকে কিছুটা ছাড় দিতেই এটি করা হয়েছে। এ ছাড়া এনজিওগুলো সতর্ক করে বলেছে, বেলজিয়াম সরাসরি আমদানি নিষিদ্ধ করলেও এই পণ্যগুলো অন্য কোনো ইউরোপীয় দেশের মাধ্যমে ‘পেছনের দরজা’ দিয়ে ঠিকই বেলজিয়ামের বাজারে প্রবেশ করতে পারে।