রবিবার, নভেম্বর ১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

হাতিয়ায় প্রথমবার অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগে প্রাণে বাঁচল সাপে কাটা শিশু

হাতিয়ায় প্রথমবার অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগে প্রাণে বাঁচল সাপে কাটা শিশু

হাতিয়ায় প্রথমবার অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগে প্রাণে বাঁচল সাপে কাটা শিশু

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম (ASV) প্রয়োগ করে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক শিশুর জীবন রক্ষা করেছেন চিকিৎসকরা। সীমিত জনবল ও চিকিৎসা-সুবিধার মধ্যেও এ সফলতা স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
 

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফিরোজ উদ্দিনের আট বছর বয়সী ছেলে রাহাত মাগরিবের নামাজ আদায় করতে যাওয়ার পথে বিষধর সাপের কামড়ে আহত হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করলেও শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রাত ১২টার দিকে তাকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল হোসেন নিলয় জানান, হাসপাতালে আনার পর রোগীর মধ্যে বিষধর সাপের দংশনের একাধিক লক্ষণ পাওয়া যায়। তার ঘাড় দুর্বল হয়ে পড়া (Broken Neck Sign), চোখের পাতা ঝুলে যাওয়া (Ptosis) এবং অচেতনতার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পাশাপাশি ২০ মিনিটের ক্লট অবজারভেশন টেস্টের (20 Minute Clot Observation Test) ফলাফলেও বিষক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
 

তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে শিশুটির বাবার সম্মতি নিয়ে হাসপাতালে প্রথমবারের মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করা হয়। চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয় এবং বর্তমানে সে আশঙ্কামুক্ত।
শিশুটির বাবা ফিরোজ উদ্দিন বলেন, সাপের কামড়ের পর ছেলের অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকে। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানো হলেও কোনো উপকার হয়নি। পরে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে অ্যান্টি স্নেক ভেনম দেন। এখন তার ছেলে অনেকটাই সুস্থ এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
 

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানসী রানী সরকার বলেন, হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইতিহাসে এটিই প্রথম অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগের ঘটনা। পুরো চিকিৎসা কার্যক্রমে চিকিৎসক, নার্স, স্যাকমো, স্টোরকিপার, ওয়ার্ডবয় ও আয়াসহ সংশ্লিষ্ট সবাই নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভবিষ্যতেও জরুরি রোগীদের দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, নার্স, শয্যা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের কারণে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদান একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। 

ফলে জটিল রোগীদের প্রায়ই মূল ভূখণ্ডে রেফার করতে হয়। তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রথমবারের মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করে একটি শিশুর জীবন রক্ষা স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবায় আশার নতুন বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, প্রশিক্ষিত জনবল এবং আধুনিক চিকিৎসা-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে সর্পদংশনে আক্রান্ত আরও অনেক রোগীর চিকিৎসা হাতিয়াতেই সফলভাবে দেওয়া সম্ভব হবে। 

হানিফ উদ্দিন সাকিব
হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি