মন্দাকিনী ১৯৬৩ সালের ৩০শে জুলাই তারিখে ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে একটি অ্যাংলো-ভারতীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। জন্মের সময় তাঁর নাম ছিল জোসেফ (ঠাকুর)। তাঁর বাবার নাম জোসেফ, যিনি একজন ব্রিটিশ এবং তাঁর মা একজন মুসলিম।
তিনি আমাদের স্মৃতিতে চিরভাস্বর হয়ে আছেন ১৯৮৫ সালের কিংবদন্তি চলচ্চিত্র ‘রাম তেরি গঙ্গা মেইলি’-তে তাঁর অনবদ্য অভিনয়ের জন্য।
একটি অ্যাংলো-ভারতীয় পরিবারে জন্ম নেওয়া ইয়াসমিন প্রথমে বলিউডে বেশ কয়েকবার প্রত্যাখ্যাত হন। কিন্তু ভাগ্য বদলায় রাজ কাপুরের হাতে। মাত্র ২২ বছর বয়সে রাজ কাপুর তাঁকে আবিষ্কার করেন এবং তাঁর পুত্র রাজীব কাপুরের বিপরীতে প্রধান চরিত্রে কাস্ট করেন ছবিতে।
‘রাম তেরি গঙ্গা মেইলি’ মুক্তি পাওয়ার পর রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠেন মন্দাকিনি।
সাহসী ও আবেগঘন চরিত্রের জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রী বিভাগে মনোনীত হন।
এরপর তিনি অভিনয় করেন ‘ডান্স ডান্স’ (মিঠুন চক্রবর্তী), ‘কহাঁ হ্যায় কানুন’ (আদিত্য পাঞ্চোলি), এবং ‘পেয়ার করে দেখো’ (গোবিন্দা)-র মতো ছবিতে।
তবে প্রথম ছবির সাফল্য আর ফিরে আসেনি। নব্বইয়ের দশকে ধীরে ধীরে অভিনয় জগৎ থেকে বিদায় নেন তিনি।
নব্বই দশকের শুরুর দিকে মন্দাকিনিকে কুখ্যাত মাফিয়া দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে দেখতে পাওয়া যায় কিছু ছবিতে। গুজব ছড়ায় তাঁদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে। যদিও তিনি এসব গুজব জোরালোভাবে অস্বীকার করেন এবং বলেন, “আমি দাউদকে চিনি, কিন্তু আমি তার নারী নই।”
১৯৯৬ সালে চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে নেন মন্দাকিনি।
তিব্বতীয় যোগব্যায়াম এবং চিকিৎসা চর্চায় মনোনিবেশ করেন তিনি। বর্তমানে মুম্বাইয়ে স্বামী ড. ক্যাগিউর টি. রিনপোচে ঠাকুরের সঙ্গে মিলে পরিচালনা করেন তিব্বতান হার্বাল সেন্টার।
তাঁর স্বামী একসময়ের বৌদ্ধ সন্ন্যাসী এবং ছোটবেলায় বিখ্যাত মারফি রেডিও বিজ্ঞাপনের শিশুপাত্র।
তাঁদের এক পুত্র রাব্বিল ও এক কন্যা রাবজে ইনায়া মন্দাকিনি।
তিনি দুটি পপ অ্যালবাম প্রকাশ করেন – ‘নো ভ্যাকেন্সি’ ও ‘শম্ভালা’, যদিও এগুলো বাণিজ্যিক সাফল্য পায়নি।
আজ জন্মদিনে স্মরণ করি এই সাহসী, অনন্য এবং বহুমাত্রিক প্রতিভাধারী অভিনেত্রীকে, যিনি শুধুমাত্র পর্দাতেই নয়, বাস্তব জীবনেও নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন ভিন্ন এক রূপে।
শুভ জন্মদিন মন্দাকিনি। আপনার আগামী দিনগুলো হোক শান্তি, সুস্থতা ও সাফল্যে ভরপুর।